হাইকোর্টের তিন বিচারপতির ‘শোকজ’ বিষয়টি ভিত্তিহীন: সুপ্রিম কোর্ট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৯ বার
সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করেছে

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলাদেশ ডেস্ক

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের তিনজন বিচারপতিকে শোকজ করা হয়েছে এমন খবর দিনভর সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিরোনাম হয়। এই খবর দ্রুত ভাইরাল হওয়ায় অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়েন। তবে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, এই সংবাদ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ ওই তিন বিচারপতির কাছে কোনো শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেননি। তারা কেবলমাত্র মামলা-সংক্রান্ত কিছু তথ্য জানতে চেয়েছিলেন, যা আদালতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার একটি নিয়মিত অংশ।

আজ সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে যে হাইকোর্ট বিভাগের তিনজন বিচারপতিকে বিপুলসংখ্যক জামিন দেওয়ার কারণে শোকজ করা হয়েছে। বাস্তবে তা সত্য নয়। প্রধান বিচারপতি কেবল প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে মামলা সংক্রান্ত কিছু তথ্য জানতে চেয়েছেন।”

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তিনজন বিচারপতি—বিচারপতি আবু তাহের সাইফুর রহমান, বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম এবং বিচারপতি জাকির হোসেন—কে হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মো. মোয়াজ্জেম হোছাইন ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তথ্য চাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। এটি কোনো শোকজ নয়, বরং আদালতের প্রশাসনিক কার্যক্রমের একটি স্বাভাবিক অংশ।

সুপ্রীম কোর্টের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আদালত সম্পর্কিত কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে বিষয়ের যথাযথ সত্যতা যাচাই করা উচিত। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “নানান সংবাদে ব্যবহৃত তথ্যের মাধ্যমে মূল বিষয়টি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। গণমাধ্যমদের প্রতি নির্দেশনা হলো, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে, যাতে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ থাকে এবং জনগণ বিভ্রান্ত না হয়।”

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিচারিক প্রক্রিয়ার পটভূমি ও হাইকোর্টের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতিরা দিনে কয়েকশ’ মামলার শুনানি করেন এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রায় প্রদান করে থাকেন। বিশেষ করে জামিন প্রদান একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। এটি নিশ্চিত করে যে কোনো আসামিকে অন্যায়ভাবে দোষারোপের ঝুঁকিতে না ফেলা হয়। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “একই দিনে ৮০০ মামলার জামিন দেওয়া শুনতে অপ্রত্যাশিত মনে হলেও, এটি উচ্চ আদালতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার একটি প্রক্রিয়া।”

এর আগে ২৩ অক্টোবর, রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল হাইকোর্টের বিচার কার্যক্রম নিয়ে বলেন, “উচ্চ আদালতের একটি বেঞ্চ এক দিনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় প্রায় ৮০০ মামলার জামিন দিয়েছে। জামিন দেওয়া আইনগতভাবে সম্ভব হলেও এই পরিমাণ মামলার শুনানি কি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্ভব তা অনুসন্ধানের বিষয়।” তাঁর বক্তব্যকেও কিছু সংবাদমাধ্যম ভিত্তিহীনভাবে তুলে ধরেছিল, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল।

সুপ্রীম কোর্টের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, বিচার প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষার জন্য আদালত নিয়মিতভাবে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে। বিচারিক প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তথ্য চাওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা বিচার বিভাগের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করে তোলে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা ও দায়িত্বও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালত সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা আবশ্যক। সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “সংবাদ প্রকাশের আগে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যের সঠিক উপস্থাপনা না হলে জনগণ বিভ্রান্ত হতে পারে এবং বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।”

এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, বর্তমানে সামাজিক ও প্রচারমাধ্যমের প্রভাবের কারণে বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কিত তথ্যকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। আদালত তার স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, এবং এটি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে শোকজ বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নয়।

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

অবশেষে, সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ জনগণ ও গণমাধ্যমকে একটি শক্তিশালী বার্তা দেয়, যে ন্যায়বিচারের স্বচ্ছতা রক্ষা করা এবং বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য চাওয়া, অনুসন্ধান করা এবং বিচারিক কার্যক্রমের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান আদালতের নিয়মিত প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ। এটি নিশ্চিত করে যে, আদালত ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল, নিরপেক্ষ এবং জনগণের আস্থা অটুট থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত