শাপলা প্রতীক না দেওয়া ইসির স্বেচ্ছাচারিতা: নাহিদ ইসলাম

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৯ বার
শাপলা প্রতীক না দেওয়া ইসির স্বেচ্ছাচারিতা: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্য। তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনে বলেন, এনসিপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার উদ্দেশ্যেই শাপলা প্রতীক নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “শাপলা প্রতীক না দেওয়া নির্বাচন কমিশনের স্বেচ্ছাচারিতা। তারা গায়ের জোরে এমন কাজ করছে।”

রাজশাহীর পর্যটন মোটেল প্রাঙ্গণে গতকাল দুপুরে এনসিপির বিভাগীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম এই প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নির্বাচনী প্রস্তুতি, রাজনৈতিক অবস্থান, জুলাই সনদ এবং চলমান ক্ষমতার রাজনীতি নিয়ে তাঁর দলের অবস্থান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত কোনো জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেইনি। সিদ্ধান্ত নিলেও তা হবে নীতিগত জায়গা থেকে। কেউ যদি সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নেয়, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের নতুন প্রত্যাশার বিরোধিতা করে, অথবা যাদের অতীতের ইতিহাস দায়ে ভারাক্রান্ত—তাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতা করা সম্ভব নয়।”

তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপি একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নিজেদের স্বাতন্ত্র বজায় রাখতে চায়। “আমরা জনগণের প্রত্যাশার জায়গা থেকে কাজ করছি। কেউ যদি আমাদের প্রতীক নিয়ে খেলা করে, সেটি জনগণের অধিকার হরণের শামিল হবে,” বলেন তিনি।

জুলাই সনদ স্বাক্ষর প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা জুলাই সনদ স্বাক্ষর করার জন্য প্রস্তুত। তবে সেটি হবে সাংবিধানিক আদেশ জারির পর। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে গণভোটের মাধ্যমে, এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসই সেই আদেশে স্বাক্ষর করবেন। রাষ্ট্রপতির পক্ষে এটি করা সম্ভব নয়, কারণ বিদ্যমান সংবিধানের আলোকে তা সাংঘর্ষিক হয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো নোট অব ডিসেন্ট থাকে, অর্থাৎ যে কোনো আপত্তি বা ভিন্নমত থেকে যায়, আমরা সেই অবস্থায় স্বাক্ষর করবো না। কারণ এটি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার সঙ্গে সম্পর্কিত।”

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, বর্তমানে একটি “ফ্যাসিবাদী শক্তি” নির্বাচনকে ঘিরে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগ এবং কিছু বৈদেশিক স্বার্থগোষ্ঠী মিলিতভাবে নির্বাচনের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। “তারা চায় নির্বাচন যেন বাধাগ্রস্ত হয়, কিংবা এমনভাবে প্রভাবিত হয় যাতে প্রকৃত গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো অংশ নিতে না পারে,” বলেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে ১৪ দলীয় জোট। “১৪ দল তাদের পুরনো রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য এমন একটি খেলায় নেমেছে, যার লক্ষ্য হলো ক্ষমতার ভারসাম্য ভেঙে দেওয়া। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়,” মন্তব্য করেন এনসিপি আহ্বায়ক।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য শুধুমাত্র একটি দলীয় অবস্থান নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে বিরোধী পক্ষগুলোর অবিশ্বাসের প্রতিফলন। তাঁরা মনে করছেন, শাপলা প্রতীক ইস্যু এখন শুধুমাত্র প্রতীকের প্রশ্ন নয়, বরং এটি একটি বড় রাজনৈতিক প্রতীকী সংঘাতের রূপ নিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, শাপলা প্রতীক নিয়ে কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে তারা। তবুও এনসিপির অভিযোগে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—নির্বাচন কমিশন আসলেই নিরপেক্ষ কি না, সেই প্রশ্নে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

রাজশাহীর স্থানীয় রাজনীতিতে এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে উৎসাহ দেখা গেছে। তরুণ কর্মীদের অংশগ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের আগ্রহ দলটির সাংগঠনিক শক্তিকে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা জনগণের রাজনীতি করতে এসেছি, কোনো চুক্তির রাজনীতি নয়। এনসিপি জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। আমাদের লক্ষ্য ক্ষমতা নয়, পরিবর্তন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই এমন একটি নির্বাচন যেখানে প্রতিটি নাগরিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, ভয় বা প্রভাব ছাড়াই। ইসি যদি সত্যিই স্বাধীন হয়, তবে তারা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ঠেকানোর চেষ্টা না করে, সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করুক।”

নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা মনে করছেন, এনসিপি মূলত নিজেদের স্বাধীন অবস্থান তুলে ধরার কৌশল নিয়েছে, যাতে দলটি আগামী নির্বাচনে কোনো নির্দিষ্ট জোটের ছায়ায় না পড়ে। একই সঙ্গে “শাপলা প্রতীক” বিষয়টি এখন তাদের জন্য একটি রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক ইতিহাসে বাংলাদেশে প্রতীক নিয়ে বিরোধ নতুন কিছু নয়। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন, কারণ এটি একদিকে নির্বাচনী প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে, অন্যদিকে নতুন রাজনৈতিক শক্তির স্বাধীনতার সীমারেখাও পরীক্ষা করছে।

নাহিদ ইসলাম শেষ পর্যন্ত বলেন, “আমরা আশা করি সরকার ও নির্বাচন কমিশন আইনানুগভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রতীক শুধু একটি চিহ্ন নয়, এটি জনগণের আস্থা ও দলের মর্যাদার প্রতিফলন। জনগণ এখন জেগে উঠেছে—তারা আর কাউকে গায়ের জোরে নিজেদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে দেবে না।”

এনসিপি’র এই অবস্থান ও বক্তব্য এখন শুধু রাজশাহী নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে এই শাপলা প্রতীক ইস্যু কীভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত