প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলে দীর্ঘদিনের এক আক্ষেপ অবশেষে কাটতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক আসরে নিয়মিত অংশগ্রহণ করলেও ঘরোয়া ফুটবল লিগের অভাবে খেলোয়াড়দের মাঠে ফেরার সুযোগ সীমিত ছিল। অবশেষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সেই শূন্যতা পূরণের পথে হাঁটছে। আগামী ডিসেম্বরে ছয় দল নিয়ে মেয়েদের ফুটবল লিগ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
বাফুফের সহসভাপতি ও মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ফাহাদ করিম মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকে মেয়েদের লিগ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। লিগটি রমজানের আগেই শেষ করার লক্ষ্য বেঁধেছে বাফুফে।
ফাহাদ করিম বলেন, “আমরা চাই মেয়েরা নিয়মিত প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকুক। শুধু আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিলে হবে না, ঘরোয়া লিগের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত খেলার সুযোগ থাকলে তাদের দক্ষতা আরও বাড়বে।”
মেয়েদের ফুটবলে সাবিনা খাতুন, আফঈদা খন্দকার ও ঋতুপর্ণা চাকমার মতো তারকারা বহুদিন ধরেই ঘরোয়া লিগ আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মেয়েদের পারফরম্যান্স বারবার প্রশংসা কুড়ালেও স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত লিগ না থাকায় তাদের খেলার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছিল।
বাফুফের কর্মকর্তারা জানান, নতুন মৌসুমের এই লিগে ছয়টি দল অংশ নেবে। দলগুলো বাছাই ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। লিগের ভেন্যু হিসেবে ঢাকার দুটি মাঠ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বাফুফে ভবনের সংলগ্ন আর্টিফিশিয়াল টার্ফ এবং কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম অন্যতম।
লিগটি নিয়মিত করার লক্ষ্য নিয়েই বাফুফের এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন নারী উইংয়ের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “আমরা শুধু এক মৌসুম নয়, প্রতিবছরই এই লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছি। মেয়েদের ফুটবলের ভিত্তি শক্ত করতে ঘরোয়া কাঠামো তৈরি করাই এখন মূল লক্ষ্য।”
বাংলাদেশের মেয়েরা এর আগে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। ২০২২ সালে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে তাদের পারফরম্যান্স নজর কাড়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তবে নিয়মিত প্রতিযোগিতা না থাকায় খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল।
সাবিনা খাতুন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা সবসময় চাই মাঠে থাকতে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের পর দীর্ঘ বিরতি আমাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। ঘরোয়া লিগ শুরু হলে সেটা আমাদের জন্য অনেক বড় সুযোগ হবে।”
নারী ফুটবলে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোর মধ্যে বসুন্ধরা কিংস, সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব, শেখ রাসেল, কাঁচারাপাড়া একাদশসহ আরও কয়েকটি ক্লাব ইতিমধ্যেই আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিটি দল স্থানীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে দুইজন করে বিদেশি খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বাফুফের এক সূত্র জানিয়েছে, নারী লিগের স্পন্সরশিপ ও সম্প্রচার নিয়েও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা চলছে। টেলিভিশন ও অনলাইন মাধ্যমে ম্যাচ সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দর্শকরা ঘরে বসে মেয়েদের ফুটবল উপভোগ করতে পারেন।
লিগের উদ্বোধনী ম্যাচটি ঘিরে বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফেডারেশন চায় নারী ফুটবলের প্রতি আগ্রহ ও সম্মান আরও বাড়াতে। এজন্য উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক তারকাদের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।
বাংলাদেশের ফুটবলে মেয়েদের উত্থান যে এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই, তা সবাই স্বীকার করেন। তবে স্থায়ী কাঠামো গড়ে তুলতে হলে ঘরোয়া লিগকে নিয়মিত করতে হবে—এই উপলব্ধি থেকেই বাফুফের নতুন উদ্যোগ। নারী ফুটবল অনুরাগীরা তাই আশাবাদী, এই লিগই হতে পারে বাংলাদেশের নারী ফুটবলের স্থায়ী পুনর্জাগরণের সূচনা।