প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
দেশের রাজধানী ঢাকা শহরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মেট্রোরেল দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে হাইকোর্ট তৎপর হয়েছে। বুধবার সকালে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মেট্রোরেলের সার্বিক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে এই কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, গঠিত কমিটিতে পরিবহন, রেল ও নাগরিক নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির দায়িত্ব শুধুমাত্র দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা নয়, বরং মেট্রোরেলের ভবিষ্যত নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুপারিশও করা। হাইকোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছে, এই প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার পেছনের প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা ত্রুটিসমূহ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে যাত্রীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন তুলেছে সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি রাজধানীতে চলমান মেট্রোরেল প্রকল্প দেশের বৃহত্তম অবকাঠামোগত উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই দুর্ঘটনা শুধু যাত্রী নয়, সমগ্র রাজধানীর জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হাইকোর্টের নির্দেশিত কমিটি গঠন প্রসঙ্গে আদালতের একটি সূত্র জানিয়েছে, কমিটিতে অভিজ্ঞ প্রকৌশলী, রেল বিশেষজ্ঞ, নাগরিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা দুর্ঘটনার সময়ের ঘটনাপ্রবাহ, ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের মান, রেল পরিচালনায় প্রযোজ্য নিয়মকানুন এবং যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য প্রণীত পদক্ষেপগুলো বিশ্লেষণ করবেন। এছাড়া কমিটি নিশ্চিত করবে যে, মেট্রোরেল পরিচালনার প্রতিটি ধাপে যথাযথ নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছে কি না।
মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সময়ই নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে চলমান প্রকল্পের দ্রুত নির্মাণের কারণে যন্ত্রাংশের মান এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলো নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা হয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেওয়ার পরই তা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, রিপোর্টে যেসব নিরাপত্তা ত্রুটি চিহ্নিত হবে, সেগুলোর সমাধান জরুরি ভিত্তিতে করতে হবে।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণে যাত্রীদের মধ্যে কিছু আহত হয়েছেন এবং কিছু ব্যক্তি মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়েছেন। দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে যে, যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না হলে মেট্রোরেল ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে হাইকোর্ট এমন কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
সরকারি পক্ষ জানিয়েছে, কমিটির কাজের পাশাপাশি মেট্রোরেলের নিরাপত্তা মান উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যেই কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের সুরক্ষা ও যানবাহনের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত চেকিং, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হবে। তবে হাইকোর্টের নির্দেশে কমিটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করলে, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা অনুসারে ভবিষ্যত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কমিটির কাজ শুধু দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করা নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি মানদণ্ড তৈরি করবে। যাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবহণ নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামোতে নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা এ কমিটির মূল লক্ষ্য।
এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের নির্দেশটি মেট্রোরেল ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
হাইকোর্টের এই নির্দেশনার ফলে মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া এটি ভবিষ্যতে যে কোনো দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।
সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন দাখিল হলে তা অনুসারে নতুন নিরাপত্তা মানদণ্ড প্রণয়ন এবং প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। ফলে দেশের বৃহত্তম এই অবকাঠামোগত উদ্যোগটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।
এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সমকালীন নগর পরিবহন ব্যবস্থার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।