প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
গাজা উপত্যকায় সম্প্রতি ইসরাইলি হামলার মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, কোনো পরিস্থিতিই গাজায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারবে না। মঙ্গলবার ইসরাইলি বিমান ও আর্টিলারি হামলায় কমপক্ষে ৬৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শিশু ও সাধারণ নাগরিকও রয়েছে। এ অবস্থার মধ্যেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
জাপান থেকে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি সর্বশেষ হামলার খবর পেয়েছেন এবং ইসরাইল তাদের পাল্টা আক্রমণ করেছে। তিনি বলেন, “যদি কেউ হামলার শিকার হয়, ইসরাইলের জন্য তা পাল্টা প্রতিহত করা স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়।” সাংবাদিকরা গাজা যুদ্ধবিরতিতে এই হামলার প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি আশ্বস্ত করেন, “কোনো কিছুই চুক্তিকে ঝুঁকিতে ফেলবে না। আমরা যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।”
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় হামাস কেবল একটি ছোট অংশ। তিনি বলেন, “হামাস জানিয়েছে তারা ভালো আচরণ করবে। যদি তারা তা না করে, তাদের নির্মূল করা হবে।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
গাজা উপত্যকায় মঙ্গলবারের হামলায় অন্তত ৬৩ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গাজা শহরের পশ্চিমে শাতি শরণার্থী শিবির এবং মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহের পূর্ব অংশে ইসরাইলি বিমান ও আর্টিলারি হামলা চালানো হয়। এছাড়া গাজা শহরের শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের আশেপাশেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই হামলা ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির নতুন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাজায় ইসরাইলি হামলা এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়া আবারও পরীক্ষা হচ্ছে। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অক্ষুন্নতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি মূলত এই প্রক্রিয়াকে স্থিতিশীল রাখার প্রয়াস হিসেবে ধরা হচ্ছে। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া বর্তমানে ২০ দফা পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, উভয় পক্ষকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা এবং রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার মধ্যে এই ঘটনার গুরুত্ব অপরিসীম। গাজা শহর এবং আশেপাশের অঞ্চলে সাধারণ মানুষ হামলার কারণে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উদ্বিগ্ন। ট্রাম্পের আশ্বাস এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির অক্ষুন্নতার প্রতিশ্রুতি এই উদ্বেগ কিছুটা কমাতে পারে, তবে মাঠে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে হামলা চালানোর পর আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন পক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষত মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নিহতদের সংখ্যা এবং শিশুদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা বলেন, সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে এবং সংঘাত হ্রাস করতে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা শুরু হয়। ট্রাম্পের এই ঘোষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে একটি বার্তা গেছে যে, গাজা পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও চুক্তি রক্ষা করা হবে এবং শান্তি প্রক্রিয়া স্থিতিশীল রাখা হবে। তবে মাঠে সংঘাতের পুনরাবৃত্তি এবং বেসামরিকদের উপর হামলার ঘটনা যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের আশ্বাস মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে তারা সতর্ক করেছেন যে, বাস্তব পরিস্থিতি এবং সংঘাতের তীব্রতা যুদ্ধবিরতি চুক্তির কার্যকারিতা প্রভাবিত করতে পারে। এজন্য উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গাজা উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল। ইসরাইলি বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ফলে সাধারণ জনগণকে নিরাপদ আশ্রয় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন। ট্রাম্পের আশ্বাস, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অক্ষুন্ন থাকবে, অন্তত একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যা স্থানীয় জনগণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য রাখছে।