নবম পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের ঈদ বোনাস দ্বিগুণ ও বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৫ বার
নবম পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের ঈদ বোনাস দ্বিগুণ ও বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫, বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা: সরকারি চাকরিজীবীদের সুবিধা ও বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)। নবম পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের ঈদ বোনাস দ্বিগুণ করার পাশাপাশি সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার এবং সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৪০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। বুধবার জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

বিএফএ জানিয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ৬০ শতাংশ করার দাবি করছে। সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, এটি সব গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। লিখিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন অধিদপ্তরে নিয়োজিত ডিপ্লোমা-ইন-ফরেস্ট্রি শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন সব ফরেস্টারদের বেতন গ্রেড অন্য ডিপ্লোমাধারীদের মতো ১০ম গ্রেড ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রিট নং: ৭০০১/২০১৭ ও সিভিল পিটিশন নং: ২৭৩৬/২০২১ অনুযায়ী ফরেস্টারদের প্রাপ্য বেতন ও পদমর্যাদা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বিএফএ।

সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের শিক্ষা ভাতা একজন সন্তানের জন্য ২ হাজার এবং দুইজন সন্তানের জন্য ৪ হাজার টাকা করা হোক। চিকিৎসা ভাতা প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা, টিফিন ভাতা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা এবং বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের সমান প্রদানের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ১০ শতাংশ এবং পেনশন ১০০ শতাংশ করার দাবি তুলেছে বিএফএ।

বিএফএ মনে করছে, বন অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত সব কর্মচারীর ঝুঁকি ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করা প্রয়োজন। তারা আরও দাবি করেছে, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে আহত বা নিহত হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠনটির মতে, সরকারি কর্মকর্তারা দেশের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিত থাকায় তাদের সুরক্ষা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

বিএফএ প্রস্তাবনায় আরও উল্লেখ করেছে, প্রতি পাঁচ বছর পর পর পে কমিশন পুনর্গঠন করে মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ভাতা আপডেট করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এই পদক্ষেপ সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে এবং কর্মসংস্থানের মান উন্নত করবে বলে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।

জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএফএ-এর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত এই পদক্ষেপগুলো নীতি ও বিধি অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে তাদের জীবনমান এবং কর্মদক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পে কমিশন এই প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

বিএফএ-এর নেতারা মনে করেন, সরকারি চাকরিজীবীদের সুবিধা ও বেতন কাঠামো উন্নত না হলে দেশের বিভিন্ন সরকারি বিভাগে কর্মদক্ষতা কমে যেতে পারে। তারা যুক্তি দিয়েছেন, বেতন ও ভাতা কাঠামোর সুবিবেচনা ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের উৎসাহ ও প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা সম্ভব নয়।

সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে বন অধিদপ্তরের ফরেস্টারদের জন্য বেতন, পদমর্যাদা এবং ভাতা কাঠামো সংশোধনের দাবি তুলেছে। তারা মনে করে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শুধু বন অধিদপ্তরের কর্মীরাই নয়, দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের সবার জীবনযাত্রা মান উন্নত হবে।

এছাড়া প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বেতন কাঠামো নির্ধারণের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের দায়িত্ব, ঝুঁকি ও স্থানীয় ভাড়া খরচ বিবেচনা করা উচিত। বিএফএ-এর মতে, দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকরী বেতন ও ভাতা কাঠামো না থাকায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা দুর্বল এবং পরিবার পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

বিএফএ-এর এক নেতা বলেন, “আমরা আশা করি পে কমিশন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এই প্রস্তাবগুলো দ্রুত গ্রহণ করবে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সময়োপযোগীভাবে বৃদ্ধি না করলে তাদের প্রেরণা ও কর্মদক্ষতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

বিএফএ’র এই প্রস্তাবনা সরকারের আর্থিক পরিকল্পনা ও বাজেট ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতা কাঠামো নিয়মিত আপডেট না হলে দেশীয় অর্থনীতি ও সরকারি সেবার মানে প্রভাব পড়তে পারে। সরকারি কর্মকর্তাদের জীবনমান উন্নত করা সরকারের দায়িত্বের অংশ।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের পে স্কেল পুনঃনির্ধারণ নিয়ে আগেও বিভিন্ন সময় পে কমিশন কাজ করেছে। তবে বিএফএ-এর এই প্রস্তাব দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য উল্লেখযোগ্য এবং ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে যে, পে কমিশন ও সরকার তাদের প্রস্তাবিত কাঠামো গ্রহণ করলে দেশের সরকারি চাকরিজীবীরা আরও আত্মবিশ্বাসী ও কর্মদক্ষ হয়ে উঠবে। এতে শুধু বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নয়, দেশের সরকারি সেবার মানও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বিএফএ-এর প্রস্তাবনায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রদত্ত বিভিন্ন ভাতা এবং বোনাস কাঠামো বাস্তবায়িত হলে দেশের সরকারি সেবার মান, কর্মদক্ষতা এবং কর্মকর্তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। বিশেষ করে ঝুঁকি ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, শিক্ষা ও চিকিৎসা ভাতা বাস্তবায়িত হলে এটি কর্মীদের জন্য একটি বড় প্রেরণার উৎস হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত