“কার কাছে বল কে দিবেন দিবেন গোল” রাজনীতির গুরপাকে বিএনপি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫০ বার
বিএনপির ফাঁকা ২৭ আসন

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫, বাংলাদেশ ডেস্ক,একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ও সুপারিশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বুধবার দুপুরে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বিএনপি আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বলেছেন, “গতকাল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারকে সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। এত দিন আমরা মনে করতাম কমিশন রেফারির ভূমিকায় আছে, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে রেফারি নিজেই গৌল দিচ্ছে। ঐকমত্য কমিশন, সরকার এবং আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল এখন একই পক্ষ; আমরা যেন বিপক্ষেই খেলছিলাম।”

বৈঠকের শিরোনাম ছিল ‘ফ্রম রুল বাই পাওয়ার টু রুল অব ল: ট্রানজিশন টু আ ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ’। এই সভায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সালাহউদ্দিনের মন্তব্য পুরো রাজনৈতিক মহলকে সতর্ক করেছে। তিনি আরও বলেন, “প্রকাশিত ৯৪ পৃষ্ঠার দলিলটি জুলাই সনদে যে বিষয়গুলোতে ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়েছিল, সেগুলো হুবহু প্রতিফলিত হয়নি। সেখানে শুধু কমিশনের প্রস্তাব এবং কিছু রাজনৈতিক দলের মতামতই স্থান পেয়েছে, কিন্তু ঐকমত্যের প্রক্রিয়া বা ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) একেবারেই উল্লেখ করা হয়নি।”

সালাহউদ্দিনের অভিযোগ, সংবিধান সংশোধনের ৪৮টি দফা প্রস্তাব গণভোটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তফসিল আকারে রাখা হলেও বিএনপি বা অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের লক্ষ্য ছিল জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা, কিন্তু তাদের প্রস্তাব জাতিকে বিভক্ত করবে। এতে কোনো জাতীয় ঐক্য আসবে না।”

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) উদ্দেশ্যমূলক পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। আগে জোটভুক্ত দলগুলো নিজস্ব প্রতীক বা জোটের প্রতীকে নির্বাচন করতে পারত, এখন নতুন নির্দেশনায় তারা বাধ্য হচ্ছেন নিজস্ব প্রতীকে অংশ নিতে। সালাহউদ্দিন বলেন, “এটি অগণতান্ত্রিক এবং বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক অধিকার হরণ করছে। আমরা চাই অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ আচরণ করুক, যাতে জাতি আশ্বস্ত হয় এবং ঐক্য বজায় থাকে। কিন্তু সম্প্রতি কমিশন এবং সরকারের পদক্ষেপ আমাদের গভীরভাবে হতাশ করেছে।”

সালাহউদ্দিন বলেন, “জাতীয় ঐকমত্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল সব পক্ষকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া। কিন্তু এখন প্রকাশিত দলিল এবং সুপারিশে শুধু সরকার ও প্রভাবশালী দলের স্বার্থ প্রতিফলিত হচ্ছে। সাধারণ জনগণ, বিরোধী দল এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এ প্রক্রিয়ায় অসন্তুষ্ট। এটি আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক।”

তিনি আরও যুক্তি দিয়েছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ শুধু বিভাজন তৈরি করছে। তিনি বলেন, “জাতীয় ঐক্যের বদলে আমরা এখন বিভাজনের মুখোমুখি। এটি জাতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।” সালাহউদ্দিনের মতে, কমিশনের সুপারিশে সরকারের পক্ষপাত স্পষ্ট, যা ভিন্নমতের (নোট অব ডিসেন্ট) গুরুত্ব উপেক্ষা করছে।

গোলটেবিল বৈঠকে তিনি উদাহরণ দিয়েছেন, কমিশনের সুপারিশে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ নেই। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রকাশিত দলিল কেবল শক্তিশালী পক্ষের প্রস্তাবের প্রতিফলন, যা দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।”

বিএনপি নেতা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত নিরপেক্ষভাবে আচরণ করা, যাতে সব রাজনৈতিক পক্ষ, সাধারণ জনগণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা জাতীয় ঐক্য নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি দেখতে পান। তিনি বলেছেন, “কমিশন এবং সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে আমরা হতাশ। যদি এই অবস্থার পরিবর্তন না হয়, তাহলে জাতির মধ্যে বিভাজন আরও বৃদ্ধি পাবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই তীব্র সমালোচনা জাতীয় ঐকমত্য প্রক্রিয়ার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। তারা বলছেন, কমিশন এবং সরকারের সমন্বয় ব্যতীত জাতীয় ঐক্য অর্জন করা সম্ভব হবে না। সাধারণ জনগণ, বিরোধী দল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সতর্ক নজর রাখছে।

সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কমিশন ও সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ যদি সমন্বিত ও নিরপেক্ষ না হয়, তা জাতীয় ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত