কিশোর নির্যাতন, অপরাধ চুরি-যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধেঅভিযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৫ বার
:কিশোর নির্যাতন, অপরাধ চুরি-যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধেঅভিযোগ

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ময়নামতি ইউনিয়নের বিন্দিয়ারচর গ্রামে চুরির অপবাদ দিয়ে এক কিশোরকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার শিকার কিশোরের নাম আবু সাঈদ, বয়স ১৫ বছর। তিনি শাহদৌলতপুর গ্রামের মৃত নাজির ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়নামতি ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা মো. মনির হোসেন বুধবার সারাদিন ধরে কিশোর আবু সাঈদকে নির্যাতন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মনির হোসেন তার দলবল নিয়ে তাকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন এবং বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালান।

স্থানীয় একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি জানান, মনির হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আখলাক হায়দারের কর্মী। গত ১৬ বছর ধরে তিনি ও তার দলবলে ময়নামতি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষদের উপর নানামুখী অত্যাচার চালাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, এখনও এই প্রথা অব্যাহত রয়েছে।

নির্যাতনের শিকার কিশোরের মা মোসাম্মৎ সেলিনা বলেন, “আমার ছেলেকে কাজের কথা বলে মনির হোসেন বাসায় নিয়ে যায়। আমার ছেলের কাজের টাকা চাওয়ায় তাকে চোর বলে আখ্যা দেয়। আমরা যখন তাকে উদ্ধার করতে যাই, তখন আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়।”

তিনি আরও জানান, “এ সময় মৃত সুলতান মৃধার ছেলে মো. মনির হোসেন ও তার দলবল আমার ছেলেকে আমাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ৯০ হাজার টাকা দাবি করে। আমি একজন স্বামীহারা মানুষ। আমার পক্ষে এই টাকা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমি প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।”

জানার চেষ্টা করা হয়, কেন কিশোরকে এইভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তবে যুবলীগ নেতা মনির হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজিজুল হক বলেন, “এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিচ্ছি।”

এই ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ক্ষমতাশালী ব্যক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা সরকারের এবং প্রশাসনের দায়িত্ব।

স্থানীয় মানুষ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে। তারা বলছেন, কোনোভাবেই শিশুদের উপর রাজনৈতিক প্রভাব বা ক্ষমতার অপব্যবহার করা উচিত নয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এই ঘটনায় কুমিল্লার স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশি তৎপরতা নজরে এসেছে। তারা জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া মাত্র বিষয়টি অনুসন্ধান করা হবে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত