জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রতিবেদন জনগণের কাছে পৌঁছাবে বই আকারে: প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৬ বার
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রতিবেদন জনগণের কাছে পৌঁছাবে বই আকারে: প্রধান উপদেষ্টা আহ্বান

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আট খণ্ডের প্রতিবেদনের হস্তান্তর উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস দেশের মানুষকে প্রতিবেদন সহজবোধ্য বই আকারে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু এমনভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন যাতে সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ দেশের সব স্তরের নাগরিক তা পড়তে এবং বুঝতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বইটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রতিবেদনের তথ্য শিখবে এবং সেই তথ্য পরিবার এবং অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবে।

এই আট খণ্ডের প্রতিবেদনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ, সভা ও কার্যবিবরণীর বিস্তারিত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদনের হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

প্রতিবেদন হস্তান্তরকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের জন্য সহজবোধ্য সংস্করণে প্রস্তুত করতে হবে। বই আকারে প্রকাশ করলে জনগণ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, প্রতিবেদনটি পড়বে, বিষয়বস্তু বুঝবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যদেরও জানাতে পারবে। বইটি ইংরেজি এবং বাংলা উভয় ভাষায় প্রকাশের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।’

কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু এবং গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, ‘আট খণ্ডের এই প্রতিবেদনে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এবং কমিশনের কার্যক্রমের প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত লিখিত প্রস্তাবনা, সাধারণ মানুষের মতামত, এবং কমিশনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রেরিত স্প্রেডশিটসহ সব ধরনের আলোচনা ও সংলাপ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে এই প্রতিবেদন দেশ ও বিদেশে গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে।’

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গত মঙ্গলবার সরকারকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ হস্তান্তর করেছে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এ বিষয়ে বলেন, ‘এই সুপারিশগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করলে দেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোতে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে। প্রতিবেদনের সহজবোধ্য সংস্করণ প্রকাশের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, ‘দেশে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য তথ্যের সহজলভ্যতা অপরিহার্য। এই প্রতিবেদন শুধুমাত্র রাজনৈতিক দল বা প্রশাসনের জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষকে দেশীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত এবং সুপারিশ সম্পর্কে সচেতন করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা প্রতিবেদনটি পড়বে, বুঝবে এবং সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।’

উল্লেখ্য, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠনের উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জনগণকে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা। কমিশনের কার্যক্রমে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ জনগণ থেকে মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আট খণ্ডের প্রতিবেদনে এসব তথ্যের বিস্তারিত অন্তর্ভুক্তি রয়েছে, যা ভবিষ্যতে গবেষণা এবং শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহারযোগ্য হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বইটির প্রকাশ ও শিক্ষার্থীদের কাছে সহজলভ্য করার আহ্বান দিয়ে বলেন, ‘আমরা চাই, প্রতিবেদনটি কেবল গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাক। শিক্ষার্থীরা পড়বে, শিক্ষিত হবে, নিজেরা বোঝার চেষ্টা করবে এবং সেই তথ্য পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করবে। এতে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।’

এই উদ্যোগকে দেশজুড়ে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবেদনটি সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছালে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে সুষ্ঠু ভোট, নির্বাচনী সংস্কৃতি ও নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রতিবেদনের এই বই আকারের প্রকাশ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন দিক উন্মোচন করবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার হিসেবে কাজ করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জনগণের অংশগ্রহণ ও শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও মজবুত হবে।

প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান অনুযায়ী, এই প্রতিবেদন ইংরেজি ও বাংলা দুই ভাষায় প্রকাশিত হলে তা দেশের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, গবেষক ও সাংবাদিকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত