নির্বাচন বানচালে ভেতর-বাহিরের অনেক অপশক্তি কাজ করবে: প্রধান উপদেষ্টা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৯ বার
ভূমিকম্পের পর প্রধান উপদেষ্টার সর্তক বার্তা

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের সময় দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে একাধিক অপশক্তি সক্রিয় হয়ে উঠবে, যারা নির্বাচন বানচালে মরিয়া হয়ে কাজ করবে। এই শক্তিগুলো বেশ সংগঠিত ও প্রভাবশালী, তাই তাদের মোকাবিলায় সব পর্যায়ে সতর্ক থাকতে হবে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, এটি হবে ন্যায়, স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্রের জন্য একটি পরীক্ষার মঞ্চ। অনেক শক্তি—ভেতরেরও, বাইরেরও—এ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে। তারা নানা কৌশলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চাইবে। কিন্তু আমাদের সেই সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “হঠাৎ করে আক্রমণ বা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হতে পারে। আমাদের সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। যত ঝড়-ঝাপ্টাই আসুক, তা অতিক্রম করে আমরা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করব।” বৈঠকে তিনি নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি নির্দেশ দেন, প্রাথমিক সব কার্যক্রম ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে, যেন সময়মতো ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া যায়।

এই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জেলার তালিকা নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক পদায়ন শুরু হবে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নতুনভাবে বণ্টন করা হবে। যেসব কর্মকর্তার স্বজন বা আত্মীয়-স্বজন নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করেন, তাদের সেই এলাকায় পদায়ন করা হবে না।”

তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসকদের পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, পোলিং অফিসার এবং প্রিসাইডিং অফিসারদের তালিকাও পুনর্গঠন করা হচ্ছে। গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে যারা এসব দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের এবার বাদ দেওয়া হবে। লক্ষ্য হচ্ছে একটি নতুন ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক টিম গঠন করা, যারা কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

প্রেস সচিব বলেন, “ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। এর আগে দেশের সব প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা কাঠামো প্রস্তুত করা হবে। আমাদের লক্ষ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে।”

সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসনিক পদায়ন ও পুনর্বিন্যাসের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের কার্যক্রম মনিটর করতে একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকেও সম্ভাব্য নাশকতা বা ষড়যন্ত্রের তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশীয় রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির আন্দোলন, এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চাপ—সব মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। এমন অবস্থায় প্রধান উপদেষ্টার এই আহ্বানকে অনেকে ‘শান্তি ও আস্থার বার্তা’ হিসেবে দেখছেন।

একজন সিনিয়র রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “ড. ইউনূসের বক্তব্যে যেমন সতর্কবার্তা আছে, তেমনি আশাবাদও আছে। তিনি প্রশাসন ও জনগণকে বুঝাতে চাইছেন, নির্বাচনকে ঘিরে যতই ষড়যন্ত্র হোক, গণতন্ত্রের প্রক্রিয়া থামবে না।”

এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের জন্য প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিও দ্রুত এগিয়ে চলছে। নতুন ভোটার তালিকা হালনাগাদ, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে কমিশনের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভোটের সূচি ঘোষণা এবং জানুয়ারির প্রথম দিকে ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নির্বাচনকালীন প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কোনো ধরণের চাপ, হুমকি বা ষড়যন্ত্রে তারা নতি স্বীকার করবে না। সবার লক্ষ্য হবে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন, যেখানে জনগণ তাদের ভোটাধিকার অবাধে প্রয়োগ করতে পারবে।

এই আহ্বান তাই শুধু প্রশাসনিক নির্দেশ নয়—এটি এক ধরনের জাতীয় অঙ্গীকার, একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত