স্বর্ণের দাম লাফিয়ে বাড়লো, ২২ ক্যারেট ২ লাখ ছাড়াল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৫ বার
আজকের স্বর্ণের দাম: ১৭ নভেম্বর ২০২৫–এ কমেছে বাজারে**

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী। টানা চার দফা কমানোর পর বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দাম ঘোষণা করেছে। এতে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এক লাফে ৮ হাজার ৯০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ নিয়ে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ২ হাজার ৭০৯ টাকায় পৌঁছে গেছে। এই ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম ২ লাখ টাকার মান ছুঁয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে এবং ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য বাজারে তা তাত্ক্ষণিক প্রভাব ফেলবে। এক্ষেত্রে স্বর্ণের বাজার মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছাড়াও অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও পরিবর্তন করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৫ টাকায় বিক্রি হবে।

অপরদিকে, রূপার বাজারের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ২২ ক্যারেট রুপার এক ভরি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়, ২১ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ২ হাজার ৬০১ টাকায় বিক্রি হবে। ফলে, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি হলেও রূপার দাম অপরিবর্তিত থাকায় বিনিয়োগকারীরা এ দিকেও নজর রাখছেন।

স্বর্ণের এই দাম বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি, স্থানীয় বাজারে চাহিদা-যোগান এবং বৈদেশিক মুদ্রার মানের ওঠানামা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে দেশের ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মনোভাব মিলিত হলে স্থানীয় বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব স্বাভাবিকভাবে পড়ে।

এর আগে, দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয়ের মধ্যে চার দফা কমানো হয়েছিল। টানা চার দফায় স্বর্ণের দাম মোট ২৩ হাজার ৫৭৩ টাকা হ্রাস পেয়েছিল। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮০৯ টাকা। কিন্তু বুধবার বাজুসের এই নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ এবং ক্রেতাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, স্বর্ণের দাম ওঠা-পড়া বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় এবং বিনিয়োগের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অনেক মানুষ স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে রাখেন, তাই দাম বাড়লে ক্রেতারা হয়তো সাময়িকভাবে সংযমী হবেন, আবার বিক্রেতারা লাভবান হবেন। অন্যদিকে, সামাজিকভাবে স্বর্ণ ক্রয় ও বিক্রির প্রক্রিয়ায় দাম ওঠা-পড়া মানসিক চাপও সৃষ্টি করে। বিশেষ করে শিলমোহর, গহনা তৈরি ও বিবাহ সংক্রান্ত ক্রয়-বিক্রয়ের সময় দাম বৃদ্ধি প্রভাব ফেলে।

বাজুসের নতুন সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কিছু ব্যবসায়ী স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছেন কারণ এটি তাদের মুনাফা বাড়াবে। তবে অনেক ক্রেতা স্বল্পমেয়াদে দাম বৃদ্ধির কারণে কেনাকাটা স্থগিত রাখার কথা ভাবছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের দাম আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

স্বর্ণের বাজারে এই পরিবর্তন দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যাদের মূল লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ, তারা স্বর্ণের ঊর্ধ্বমুখী দামকে একটি সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখতে পারেন। আবার যারা সাময়িকভাবে ক্রয়-বিক্রয় করেন, তাদের জন্য এই দাম বৃদ্ধি একটি সতর্কবার্তা।

বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বিভিন্ন ভাবনা উন্মোচিত করছে। স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় বিবাহ, সামাজিক অনুষ্ঠান বা ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা করতে ক্রেতাদের আগে থেকে সতর্ক হতে হচ্ছে। তবে দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।

স্বর্ণের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী চলন অর্থনীতির স্থিতিশীলতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বর্ণের দাম এখনো বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় এবং ভবিষ্যতে আরও ওঠানামা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সতর্ক থাকা এবং বাজারের পরিবর্তনগুলো নজর রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত