রাজশাহীতে ট্রাকের ধাক্কায় আগুনে পুড়ে প্রাণ গেল যুবকের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৮ বার
রাজশাহীতে ট্রাকের ধাক্কায় আগুনে পুড়ে প্রাণ গেল যুবকের

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজশাহীর মোহনপুরে ভোররাতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক তরুণ মোটরসাইকেল আরোহী। ট্রাকের ধাক্কায় সংঘর্ষের পর মুহূর্তেই আগুন ধরে যায় মোটরসাইকেলে, আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আরোহী ইসমাইল হোসেনের (৩২)। নিহত ইসমাইল মোহনপুর উপজেলার হাজরাপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। ভোরের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা পুরো এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার কালিতলা ময়দা মিলের পাশে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসমাইল হোসেন তার মোটরসাইকেলযোগে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মুহূর্তেই মোটরসাইকেলটি ছিটকে পড়ে এবং এর ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। আগুনে আটকা পড়ে আরোহী চিৎকার করতে থাকেন, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো বাইক ও আরোহীকে গ্রাস করে নেয়। স্থানীয়রা পানি ও বালু ছুঁড়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।

দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার নিচে উল্টে পড়ে যায়। তবে চালক ও তার সহযোগী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে মোহনপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পুড়ে যাওয়া দেহ উদ্ধার করেন। পরে নিহতের লাশ মোহনপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কেশরহাট বাজার থেকে কালিতলা পর্যন্ত অংশে রাস্তার প্রস্থ সংকীর্ণ ও খানাখন্দে ভরা হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। দুর্ঘটনার সময় সড়কটিতে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। আগুনে পুড়ে যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে তার পরিবারের কাছে খবর পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান।” তিনি আরও জানান, চালক ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

ওসি আতাউর রহমান আরও বলেন, “এ ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা (ইউডি) দায়ের করা হবে। পাশাপাশি ট্রাক মালিক ও চালকের পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজন হলে মামলাটি পরবর্তীতে নিয়মিত মামলা হিসেবে রূপান্তর করা হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সড়কটিতে কোনো গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা সাইনবোর্ড নেই। ভারী ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানগুলো প্রতিদিন ভোররাতে দ্রুতগতিতে চলাচল করে, যা সাধারণ মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এলাকাবাসী দ্রুত গতিসীমা নির্ধারণ, সড়কে আলোর ব্যবস্থা এবং পুলিশের নিয়মিত টহল বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে নিহত ইসমাইলের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। তার ছোট ভাই কামরুল হোসেন বলেন, “ভাই ভোরে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল। কিছু সময় পর খবর আসে, দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আগুনে পুরো শরীর পুড়ে গেছে। আমরা কিছুই করতে পারিনি।” কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “ভাইকে এমন অবস্থায় দেখতে হবে ভাবিনি। আমরা তার জন্য ন্যায়বিচার চাই।”

ফায়ার সার্ভিসের স্থানীয় কর্মকর্তা জানান, মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে ধাক্কা লেগে জ্বালানির সংযোগস্থলে স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হওয়ায় আগুন ধরে যায়। এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পুরনো ও অরক্ষিত যানবাহন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি উল্টে পড়ায় রাস্তার চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক করতে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক সরিয়ে নেয়। সকালে সড়কটি পরিষ্কার হওয়ার পর যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় দোকানদার ও পথচারীরা জানিয়েছেন, রাত ও ভোরে ট্রাকের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে নিয়মিত চেকপোস্ট ও স্পিডগান ব্যবহার করে গতিনিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা “নিরাপদ সড়ক চাই” এর রাজশাহী অঞ্চলের সমন্বয়ক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের এই অংশে বিগত ছয় মাসে অন্তত সাতটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। সড়ক সংস্কার ও আলো স্থাপনে প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় দুর্ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। আমরা চাই সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে এই সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করুক।”

ইসমাইল হোসেনের মৃত্যু সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবার, এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

রাজশাহী জেলার দুর্ঘটনা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ছোট-বড় ১৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪ জন। এর বেশিরভাগই মোটরসাইকেল আরোহী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুতগামী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল, প্রশিক্ষণবিহীন চালক, এবং যানবাহনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি দুর্ঘটনার হার বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এমন মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয়। একটি মুহূর্তের অসতর্কতা কতটা ভয়াবহ হতে পারে, মোহনপুরের কালিতলার এই দুর্ঘটনাই যেন তার নির্মম উদাহরণ।

আপনি কি চান আমি এই প্রতিবেদনের জন্য আরও কিছু বিকল্প শিরোনাম (যেমন—“ভোররাতে আগুনে মৃত্যু: রাজশাহীতে ট্রাকের ধাক্কায় যুবকের মর্মান্তিক পরিণতি”) তৈরি করে দিই?

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত