প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সিলেটে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কর্মশালা, যা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) আয়োজিত ‘দক্ষতাভিত্তিক মৌখিক পরীক্ষা উন্নয়ন ও কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচি। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করছেন পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম, কমিশনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং সচিবালয়ের সচিব আবদুর রহমান তরফদার।
উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে প্রার্থী নির্বাচনের মৌখিক পরীক্ষা এমনভাবে বাস্তবায়ন করা যাতে তা দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এই কর্মশালায় তিনটি ভিন্ন দেশের সিভিল সার্ভিস বিশেষজ্ঞ অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে নিজেদের দেশে কার্যকর ও দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন। অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য বাস্তবায়ন কাঠামো সম্পর্কে ধারণা অর্জন করবেন।
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, কর্মশালার ফলস্বরূপ প্রণীত কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মৌলিক পরিবর্তন আনার সক্ষমতা রাখবে। এটি প্রার্থীদের মূল্যায়ন ও নির্বাচনে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং সময়োপযোগিতা নিশ্চিত করবে। বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হয়েছে, রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করা।
পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসে এমন এক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে প্রার্থীদের নির্বাচন সম্পূর্ণ দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হয়। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা আমাদের প্রক্রিয়া আরও সমৃদ্ধ করবে এবং মৌখিক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পদ্ধতিতে আধুনিকীকরণ সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই কর্মশালা শুধু পরীক্ষা প্রক্রিয়া উন্নয়নে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। আমরা চাই, যে কোনো প্রার্থী যাতে তার যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী বিচার পায় এবং বিসিএসের মাধ্যমে দেশের সেবায় নিয়োগ পাওয়া সহজ ও সুবিচারপ্রসূত হয়।”
কর্মশালার আরেকটি লক্ষ্য হলো বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও পদ্ধতি থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মানিয়ে নেওয়া। তিনটি ভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা তাঁদের দেশের সিভিল সার্ভিসে ব্যবহৃত দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি, প্রার্থী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কৌশল এবং সময়োপযোগী মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার উদাহরণ তুলে ধরবেন। এতে অংশগ্রহণকারীরা মৌখিক পরীক্ষা ও প্রার্থী মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পাবেন।
পিএসসি কর্মশালার মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মৌখিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য মূল্যায়ন পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা হবে। এটি প্রার্থীদের নির্বাচনে যোগ্যতার প্রতি জোর দেয়ার পাশাপাশি সকল প্রার্থীকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে। কমিশন আশা করছে, এই আধুনিক পদ্ধতি প্রবর্তনের ফলে প্রার্থী নির্বাচনে ঝুঁকি ও পক্ষপাতিত্ব কমে যাবে এবং প্রক্রিয়া আরও নিরপেক্ষ হবে।
পিএসসির সচিব আবদুর রহমান তরফদার বলেন, “আমরা চাই যে প্রার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতি যেন আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়। দেশের সেবায় যারা যোগ্য, তাদের সুযোগ নিশ্চিত করতে আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক পরীক্ষার ব্যবস্থা অপরিহার্য। এই কর্মশালা সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
উল্লেখযোগ্য যে, পিএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইতিমধ্যেই কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই কর্মশালা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও নীতি-নির্ধারণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ করে দেবে। বিশেষজ্ঞদের দেওয়া নির্দেশনা, বিশ্লেষণ ও পরামর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রার্থী নির্বাচনের পদ্ধতি ভবিষ্যতে আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা প্রার্থী নির্বাচনের বিভিন্ন পর্যায়, যেমন লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন, দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। বিশেষভাবে ফোকাস থাকবে প্রার্থী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়ম দূরীকরণ করা এবং দক্ষতা যাচাইয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও পদ্ধতি ব্যবহার করা।
পিএসসির কর্মশালার আয়োজন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লক্ষ্য ও পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশের প্রশাসন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি করা এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।
অন্তত দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা দেশের প্রেক্ষাপটে কার্যকর কৌশল তৈরি করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রার্থী মূল্যায়ন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার মান উন্নয়নে কাজ করবেন। এতে প্রার্থীদের জন্য স্বচ্ছ, কার্যকর ও ন্যায্য পরীক্ষা পরিবেশ তৈরি হবে।
পিএসসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কর্মশালার ফলাফল এবং প্রণীত কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা ভবিষ্যতে বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়ার মান বৃদ্ধি করবে। এটি শুধু প্রার্থীদের জন্য নয়, পুরো প্রশাসন ব্যবস্থার জন্য সহায়ক হবে।
চূড়ান্তভাবে, এই কর্মশালা বাংলাদেশের সরকারি কর্ম কমিশনের জন্য একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হিসেবে গণ্য হবে। দক্ষতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রার্থীদের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনের মান বৃদ্ধি করাই কর্মশালার মূল লক্ষ্য।