প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
গাজীপুরের টঙ্গী টিঅ্যান্ডটি কলোনি বিটিসিএল জামে মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহ মাদানীর জীবন আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। একদিন আগের অদ্ভুত ও রহস্যময়ী ঘটনা অনলাইনে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মাদানী হঠাৎ করে বাসা থেকে বের হয়ে পালানোর চেষ্টা করছেন।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার দুপুর দেড়টার সময় মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাদানী বাসা থেকে ছুটে বের হন। ছোট ছেলে মুহাম্মাদুল্লাহ তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করলেও তিনি তা এড়াতে চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় মুসল্লি ও আশপাশের মানুষ এসে তাঁকে ধরা দেয় এবং বাসায় ফিরিয়ে আনে। বাসায় ফেরার পর মাদানী অভিযোগ করেন, তাঁর শরীরে আঘাত করা হয়েছে এবং তিনি আহত হয়েছেন।
মাদানীর বড় ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, জোহরের নামাজের পর হঠাৎ করে মাদানী বাসা থেকে বেরিয়ে যান। তিনি স্বজনদের জানান, তিনি ইসকনের মহাপ্রভু চিন্ময় দাসের হাতে ‘পানি পড়া’ খাওয়ার জন্য যাচ্ছেন। তবে কেন কোনো পরিবারকে জানানো হয়নি, তা এখনও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
এর আগে, ২৩ অক্টোবর মাদানীকে পঞ্চগড়ের সদর থানার হেলিপ্যাড বাজার এলাকা থেকে লোহার শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। তিনি ওই সময় অজ্ঞান ছিলেন এবং পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনার পর টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ মাদানীকে পুনরায় উদ্ধার করে গাজীপুরে নিয়ে আসে।
মাদানী পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, তিনি নিজেই এই সব ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি বলেন, হাঁটতে যাওয়ার পর হঠাৎ মনে হয়েছে, তিনি চলতে থাকবেন। একপর্যায়ে তিনি বিভিন্ন যানবাহনে উঠেছেন, পঞ্চগড়, গাবতলী পর্যন্ত পৌঁছেছেন এবং এক সময়ে শুয়ে পড়েছেন। মাদানী আরও জানান, তিনি ঠাণ্ডায় শুয়ে শিকল পরেছেন এবং তখন তার কোনো পরিকল্পনা ছিল না, কেবল যেটা মনে আসছে তাই করছেন।
এই অদ্ভুত ও রহস্যময়ী ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনদের মধ্যে বিস্ময় ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তির আচরণ ও মানসিক অবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
মাদানীর আচরণ ও অনলাইনে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা দৃশ্য সমাজে নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়েছেন। স্থানীয় মুসল্লিরা জানিয়েছেন, মাদানীর আচরণ অস্বাভাবিক হলেও, তাঁকে বাসায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখা হয়।
ঘটনার পর টঙ্গী এলাকায় এলাকায় মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে মুহিব্বুল্লাহ মাদানীর বাসা থেকে বের হওয়ার মুহূর্ত, স্থানীয়রা তাঁকে আটকানো এবং পরে বাসায় ফেরানোর দৃশ্যসহ পুরো ঘটনা ধরা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ, ধর্মীয় নেতারা এবং সাধারণ মানুষ নজর রাখছেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতার এই ধরনের আচরণ সমাজে নানা প্রশ্ন এবং আলোচনার জন্ম দেয়। তারা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা ব্যক্তিগত মানসিক অবস্থা ও নিরাপত্তা বিষয়ক দিকগুলো নিয়েও জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে।
মাদানীর স্বীকারোক্তি এবং ভিডিওর ভাইরাল হওয়া একরকমভাবে তার আচরণ ও পরবর্তীতে নিরাপত্তা, মানসিক অবস্থা এবং জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু করেছে। স্থানীয় মুসল্লি ও স্বজনরা চেষ্টা করেছেন বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে।
এভাবে মুহিব্বুল্লাহ মাদানীর অদ্ভুত পালানোর ঘটনা এবং তার আগে অপহরণ ও উদ্ধার সংক্রান্ত বিষয়গুলো গাজীপুর ও পঞ্চগড় এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও পুলিশের ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। নাগরিক ও ধর্মীয় সমাজের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এটি স্থানীয় পর্যায়ে অনেকেই নজর রাখছেন।
ঘটনাটি প্রমাণ করে, প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতার আচরণ এবং তাদের সামাজিক উপস্থিতি সমাজে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে, তা আবারও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে।