নির্বাচনের আগে গণভোট কোনোভাবেই মানবে না বিএনপি: মির্জা ফখরুল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৬ বার
অন্তর্বর্তী সরকারই বর্তমান সংকটের মূল: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত গণভোট নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে কোনোভাবে মানা হবে না বলে পরিষ্কার জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কমিশন যদি ২৭০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ না করে, তাহলে সংবিধান সংস্কার বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে—এমন ধারণা হাস্যকর ও গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী।

মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করা হলে সময়, ব্যয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দিক থেকে তা যথাযথ ও যুক্তিসঙ্গত হবে। তিনি আরও বলেন, সনদের সুপারিশমালার যে কোনো আপত্তি থাকলে প্রয়োজনে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তা উপস্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব একপেশে এবং জবরদস্তিমূলকভাবে জাতির ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে প্রমাণ হয় যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে সংলাপ হয়েছিল, তা ছিল অর্থহীন, প্রহসনমূলক এবং জাতির সঙ্গে প্রতারণার মতো। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির এখতিয়ার নেই অন্তর্বর্তী সরকারের, এই বিষয়েও তিনি সাফ জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। তবে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতা শুধু জাতীয় সংসদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কোনো এখতিয়ার তাদের নেই।

তিনি বলেন, বিএনপি দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতিকে বিভক্ত করার যে কোনো পদক্ষেপ অনৈক্য সৃষ্টি করবে এবং জাতীয় জীবনে অকল্যাণ ডেকে আনবে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই ঐক্য, প্রতারণা নয়।

সংস্কার বিএনপির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, বিএনপি সবসময়ই সংস্কারের পক্ষে। শহীদ জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, খালেদা জিয়ার ভিশন–২০৩০ এবং তারেক রহমানের ৩১ দফা—সবই প্রমাণ করে বিএনপি গণতান্ত্রিক সংস্কারে আন্তরিক।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ ধারাবাহিক আলোচনায় কিছু কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত/নোট অব ডিসেন্টসহকারে ঐকমত্য হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ প্রণীত ও স্বাক্ষরিত হওয়ার পর দেখা গেছে, নোট অব ডিসেন্টের অংশে ভিন্নমত প্রকাশ করা রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

ফখরুল বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সব জাতীয় অনুষ্ঠান বিটিভিসহ অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সম্প্রচারিত হয়েছে। ঐতিহাসিক জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিএনপি কেবল অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছে। তবে চূড়ান্ত কপি তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। পরে হাতে পাওয়া প্রিন্টেড কপিতে দেখা গেছে, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্মত কিছু দফা অগোচরে পুনঃসংশোধন করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিভিন্ন সরকারি/বেসরকারি অফিসে টাঙানো সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করার বিষয়টি চূড়ান্ত সনদে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এছাড়া সংবিধানের ১৫০(২) অনুচ্ছেদ পুরোপুরি বিলুপ্ত করার প্রস্তাবও অগোচরে সনদে সংশোধন করা হয়েছে।

ফখরুল বলেন, দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের ধারাবাহিক আলোচনা ছিল অর্থহীন, প্রহসনমূলক এবং জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। সেই কারণে সংলাপের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। তবে ঐকমত্য কমিশন ভিন্নমত পোষণে রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকারকে আমলেই নেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, সালাউদ্দিন আহমদ ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত