১ লা নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন খুলছে তবে শর্ত সাপেক্ষে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৪ বার

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আগামী পয়লা নভেম্বর থেকে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন পর্যটকদের জন্য সীমিতভাবে খুলছে। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা এই দ্বীপটি এবার নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসের জন্য ভ্রমণের সুযোগ দেবে। তবে সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণ করতে হলে পর্যটকদের মানতে হবে একগুচ্ছ পরিবেশ সংরক্ষণমূলক বিধি নিষেধ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। এছাড়া, পর্যটকদের সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে ট্রাভেল পাসসহ টিকিট কিনতে হবে। এই ট্রাভেল পাসে সংযুক্ত কিউআর কোড ছাড়া টিকিট বৈধ গণ্য হবে না।

নভেম্বর মাসে পর্যটকরা শুধু দিনের বেলায় দ্বীপটি ভ্রমণ করতে পারবেন এবং রাতের জন্য থাকার অনুমতি থাকবে না। অর্থাৎ, যদি ৫টার মধ্যে সেন্ট মার্টিন থেকে যাত্রা শুরু হয়, কক্সবাজারে পৌঁছতে রাত ১২টা পর্যন্ত সময় লাগবে। ফলে পর্যটকরা দ্বীপে সর্বাধিক দুই ঘণ্টা সময় কাটাতে পারবেন। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপন অনুমোদিত থাকবে। ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন সর্বাধিক দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবে।

সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য সরকার ১২ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা গত সোমবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন নির্দেশিকা, ২০২৩-এর আলোকে এই নির্দেশনা প্রণীত হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিআইডব্লিউটিএ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান সেন্ট মার্টিনে চলাচল করতে পারবে না। পর্যটকরা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট ক্রয় করবেন, যাতে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। ট্রাভেল পাস ছাড়া টিকিট অবৈধ গণ্য হবে। দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি এবং পর্যটকের সংখ্যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

পর্যটকরা নভেম্বর মাসে কেবল দিনের বেলায় দ্বীপ ভ্রমণ করতে পারবেন। ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপন সম্ভব। ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন গড়ে সর্বাধিক দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবে।

দ্বীপের সৈকতে কোনো ধরনের আলো, শব্দ বা বারবিকিউ পার্টি করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ-বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জীব-বৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা যে কোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ।

পর্যটকদের একবার ব্যবহার করা প্লাস্টিক, যেমন চিপসের প্যাকেট, স্ট্র, ছোট সাবান বা শ্যাম্পু, ছোট প্লাস্টিক বোতল বহন করা যাবে না। প্লাস্টিক বোতলের পরিবর্তে নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা মানলে দ্বীপের স্বাভাবিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ নিরাপদে রাখা সম্ভব হবে।

সেন্ট মার্টিনকে স্বল্পপরিসরে খোলা হলেও সরকারের লক্ষ্য দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রবাল চুনাপাথরের বিশেষ বৈচিত্র্য এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা। এই উদ্যোগ পর্যটকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হলেও একই সঙ্গে দ্বীপের পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করবে। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা এবং নিয়মকানুন মেনে চললে, পর্যটকরা সেন্ট মার্টিনের সৌন্দর্য ভোগ করতে পারবেন এবং দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।

পর্যটকদের জন্য সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণ একটি সীমিত সুযোগ হলেও পরিবেশ-বান্ধব এবং নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের এই পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত