‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে এনসিপির প্রশ্ন: বিকল্প কতটা দৃষ্টিনন্দন, তা বুঝতে চাই

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৬ বার
‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে এনসিপির প্রশ্ন: বিকল্প কতটা দৃষ্টিনন্দন, তা বুঝতে চাই

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নির্বাচন কমিশনের নতুন প্রজ্ঞাপনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও তৈরি হয়েছে আলোচনা। সম্প্রতি ঘোষিত প্রতীক তালিকায় যুক্ত হয়েছে ‘শাপলা কলি’ নামের নতুন একটি প্রতীক, যা পুরনো ও ঐতিহাসিক ‘শাপলা’ প্রতীকের বিকল্প হিসেবে আনা হয়েছে। তবে এই নতুন প্রতীক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “শাপলার বিকল্প হিসেবে ‘শাপলা কলি’ কেমন দৃষ্টিনন্দন আকৃতির হলো, সেটা আমরা বুঝতে চাই।” তার এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

আখতার হোসেনের এই বক্তব্যকে অনেকে দেখছেন একটি ‘নির্বাচনী প্রতীক বিতর্কের’ সূচনা হিসেবে, যেখানে কেবল প্রতীকের আকৃতি বা সৌন্দর্য নয়, বরং এর প্রতীকী অর্থ ও ঐতিহ্যের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

তার পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “এনসিপি সবসময় বলেছে, শাপলার কোনও বিকল্প নেই। বিকল্প কেবল শাপলার ভেতর থেকেই হতে হবে। আমরা নানারকম শাপলার ডিজাইন উপস্থাপন করেছি। নির্বাচন কমিশন শাপলার ভেতর থেকেই শাপলা কলিকে বিকল্প হিসেবে হাজির করেছে।”

আখতার হোসেনের বক্তব্যে বোঝা যায়, এনসিপি দলটি এই নতুন প্রতীকটিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান না করলেও, তারা এর রূপ ও প্রতীকী অর্থ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে। তার মতে, শাপলা বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজে একটি গভীর সাংস্কৃতিক প্রতীক। এটি কেবল একটি ফুল নয়, বরং জাতীয় পরিচয়েরও অংশ। তাই এর বিকল্প বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আরও স্পষ্টতা ও সৌন্দর্য থাকা উচিত ছিল।

নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন বিধিমালা ২০০৮ সংশোধন করে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকটি রাজনৈতিক দলের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারই এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিবন্ধিত দলগুলোর প্রতীকসংক্রান্ত সংশোধনী অনুযায়ী ‘শাপলা কলি’ এখন থেকে একটি বৈধ রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

তবে এই ঘোষণা আসার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে প্রতীকের নান্দনিকতা ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, ‘শাপলা কলি’ নামটি শুনতেই কোমল ও সুন্দর লাগে, কিন্তু এর বাস্তব আকৃতি কেমন, তা এখনো অনেকে জানেন না। অনেকেই মনে করছেন, যদি প্রতীকটি সঠিকভাবে নকশা করা হয় এবং এর রঙ, আকার ও প্রতীকী অর্থ জাতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে এটি জনপ্রিয়তা পেতে পারে।

অন্যদিকে, এনসিপি নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ এই প্রতীকটিকে রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন। তাদের মতে, প্রতীক শুধু একটি চিহ্ন নয়—এটি দলীয় পরিচয়, রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও জনগণের আবেগের প্রতিফলন। একে হঠাৎ পরিবর্তন করা বা বিকল্প দেওয়া জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে প্রতীকের গুরুত্ব অনেক বেশি। একটি ফুল, গাছ, পাখি বা বই—এসব প্রতীক দীর্ঘদিন ধরে জনগণের মনে নির্দিষ্ট দল বা মতাদর্শের প্রতিফলন হিসেবে কাজ করছে। তাই ‘শাপলা কলি’ প্রতীকটি গ্রহণযোগ্যতা পেতে হলে শুধু আকৃতিতে নয়, ভাবার্থেও সেটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

রাজনৈতিক ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ‘শাপলা’ প্রতীকটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুল ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় একটি প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এটি শান্তি, পবিত্রতা এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। বাংলাদেশের জাতীয় ফুলও শাপলা, যা দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। সেই দিক থেকে অনেকেই মনে করছেন, ‘শাপলা কলি’কে বিকল্প হিসেবে আনা মানে ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের উত্তরাধিকার বজায় রাখারই এক প্রয়াস।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই নতুন প্রতীকটি দেখতে কেমন? এর রঙ, আকৃতি বা উপস্থাপনা কতটা নান্দনিক ও আকর্ষণীয়? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে দাবি করছেন, ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের ডিজাইনটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। অনেকেই এটি দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন, বিশেষ করে যারা বিশ্বাস করেন প্রতীকের দৃশ্যমানতা ও সৌন্দর্য ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতীকটি খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। তারা বলেন, “নতুন প্রতীকের নকশা তৈরি হয়েছে বিধি অনুযায়ী। এটি দেখতে কেমন এবং এর ধারণাগত দিকগুলো কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা শিগগিরই সবার সামনে উপস্থাপন করা হবে।”

রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে সাধারণ মানুষও এই প্রতীক নিয়ে কৌতূহলী হয়ে উঠেছেন। রাজধানীর মিরপুর এলাকার এক ভোটার বলেন, “শাপলা আমাদের দেশের প্রতীক। এখন যদি শাপলা কলি আসে, সেটা দেখতে কেমন হয় জানতে ইচ্ছে করছে। প্রতীকটা যদি সুন্দর হয়, মানুষ সেটাকে ভালোভাবেই গ্রহণ করবে।”

সবশেষে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেনের বক্তব্য। অনেকেই মনে করছেন, তার মন্তব্য মূলত প্রতীকের প্রতি এক ধরণের মমত্ববোধ থেকেই এসেছে। কারণ, রাজনৈতিক প্রতীক শুধু দলের নয়—এটি মানুষের অনুভূতির সঙ্গেও যুক্ত।

এখন রাজনৈতিক মহল, নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার—সবাই অপেক্ষায় আছে ‘শাপলা কলি’র বাস্তব রূপ দেখার জন্য। এটি কেমন দৃষ্টিনন্দন হবে, জনগণ কতটা গ্রহণ করবে, এবং এনসিপি কীভাবে প্রতীকটির প্রতি তাদের অবস্থান নির্ধারণ করবে—সেটিই দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত