‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ মামলায় শেখ হাসিনা ও ২৬১ আসামি পলাতক, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪১ বার
‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ মামলায় শেখ হাসিনা ও ২৬১ আসামি পলাতক, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বহুল আলোচিত ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ সম্পর্কিত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২৬১ জন আসামিকে পলাতক ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এই বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেছে, যা সম্প্রতি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়েছে।

এই মামলাটি ২০২৫ সালে রমনা থানায় সিআইডি কর্তৃক দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে পেনাল কোডের ১২১, ১২১(ক) এবং ১২৪(ক) ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। সিআইডির তদন্তের মাধ্যমে জানা যায় যে, ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দেশ এবং দেশের বাইরে বসে একটি বৈধ সরকারকে উৎখাত করার জন্য সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছিল। এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে সরকার বিরোধী কার্যকলাপ চালানো হচ্ছিল।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ মামলার তদন্তের জন্য সিআইডি বহু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সার্ভার, এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য সংগ্রহ করে ফরেনসিক বিশ্লেষণ করেছে। তদন্তের ফলস্বরূপ, মামলার মূল আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়।

এদিকে, ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১৭ নং আদালতের বিচারক আরিফুল ইসলাম এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য একটি আদেশ দেন। আদালত প্রধান আসামি শেখ হাসিনাসহ ২৬১ জন আসামির অনুপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের পলাতক ঘোষণা করেন। এরপরই আদালত সিআইডিকে নির্দেশ দেন, এই পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য।

এখন পর্যন্ত, সিআইডি কর্তৃক এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। সিআইডি দাবি করেছে যে, মামলাটি বর্তমানে আদালতে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত এবং তারা দেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষিত ‘বিচার’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এছাড়া, সিআইডি আরও জানিয়েছে যে, এই মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আদালতে মামলার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হবে। সিআইডি কর্তৃপক্ষ মনে করে, এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে মামলার প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

এটি এক নজরে সরকারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে, যেখানে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে এই মামলার বিবিধ পর্যায়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা এবং বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত