বিএনপির জোটে ৬৩ আসন অমীমাংসিত, মিত্রদের দাবি ২২২

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩০ বার
বিএনপির জোটে ৬৩ আসন অমীমাংসিত, মিত্রদের দাবি ২২২

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি প্রাথমিকভাবে ২৩৭টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। তবে দলটি ৬৩টি আসন খালি রেখেছে, যা জোট ও শরিকদের জন্য সংরক্ষিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছেন, এই ৬৩টি আসনের সবকটি জোটের জন্য নয়, বরং কিছু আসনে একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী থাকার কারণে তা অমীমাংসিত রয়েছে। তবে শরিকদের জন্য আসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন নেতারা।

নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও (সংশোধন) অনুযায়ী, এবার বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবেন না। তাদেরকে নিজ দলের প্রতীকে অংশগ্রহণ করতে হবে। এ অবস্থায়, চার-পাঁচজন নেতা ছাড়া শরিকদের দলগত ও নিজস্ব ভোটব্যাংক না থাকার কারণে তাদের জয়ের সম্ভাবনা কম। ফলে অমীমাংসিত আসনগুলোতে বিএনপির অন্য প্রার্থী এগিয়ে আসতে পারেন।

বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে ৫০টির বেশি দল যুক্ত ছিল। এই দলগুলোর প্রার্থীদের এলাকার জনপ্রিয়তা যাচাই-বাছাই শেষে ২৫ থেকে ৩০টি আসন তাদের জন্য ছাড়া হতে পারে। এছাড়া নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির সঙ্গে জোট গঠিত হলে প্রায় ১০টি আসন তাদের জন্য বরাদ্দ করা যেতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় ৬৩টি আসন খালি রাখা হয়েছে। সেখানে সব আসন জোটের জন্য রাখা হয়নি। কিছু আসনে একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী থাকার কারণে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি। অমীমাংসিত আসনগুলো শিগগির চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে এবং কোথায় নির্বাচন করবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

সম্প্রতি ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের কাছে কে কোন আসন থেকে নির্বাচন করতে চান তা জানতে চেয়েছে বিএনপি। এ ধরনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২২২টি আসনের জন্য মিত্ররা তাদের তালিকা জমা দিয়েছে। গণঅধিকার পরিষদও ২০টি আসন দাবি করেছিল। তবে বিএনপি এখনো চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেয়নি। সূত্র মতে, আন্দোলনের শরিকরা ২৫-৩০টি আসন পেতে পারেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ১২ নেতাকে নির্বাচনি এলাকায় কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার (পিরোজপুর-১), নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-২), বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ (ঢাকা-১৭), বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১) এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা (কিশোরগঞ্জ-৫)। এছাড়া ঢাকা-১৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, চট্টগ্রাম-১৪, কুমিল্লা-৭, নড়াইল-২, পটুয়াখালী-৩ এবং ঝিনাইদহ-২ আসনেও বিভিন্ন দলের নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

যদি এনসিপি সঙ্গে জোট গঠন হয়, তবে তাদের জন্য প্রায় ১০টি আসন ছাড়া হতে পারে। এনসিপি সূত্র জানায়, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১, সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পঞ্চগড়-১, দক্ষিণের হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা-৪, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-১৮, তাসনিম জারা ঢাকা-৯, সারোয়ার তুষার নরসিংদী-২, হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬ এবং আদিবুল ইসলাম আদীব ঢাকা-১৪ থেকে নির্বাচন করতে পারেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি ও তার জোট শরিকদের মধ্যে আসন বিতরণ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শীর্ষ নেতারা অমীমাংসিত আসনগুলোতে জনসংখ্যা ও ভোটব্যাংকের শক্তি যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এতে রাজনৈতিক ধ্রুবকতা বজায় রাখার পাশাপাশি জোটের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এবারের নির্বাচনকে ঘিরে আসন বিতরণ এবং জোটসংক্রান্ত বিষয়গুলো রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। শীর্ষ নেতাদের দাবি, আসন ছাড়ার ক্ষেত্রে মিত্রদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে এবং অমীমাংসিত আসনগুলো শিগগির চূড়ান্ত হবে। তবে নির্দিষ্ট আসনে বিএনপি প্রার্থী ও জোট শরিকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং ভোটব্যাংক বিশ্লেষণই শেষ সিদ্ধান্তের পথ নির্দেশ করবে।

ফলে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোটের কৌশলগত আসন বণ্টন ও শরিকদের অংশগ্রহণ দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় জোটের শক্তি, প্রার্থীর জনপ্রিয়তা এবং নির্বাচনি কৌশলগুলো মিলিয়ে আসন বণ্টন করা হবে, যা বিএনপির নেতৃত্বাধীন শীর্ষ কমিটির কাছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত