প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ফান্ড থেকে মুজিব শতবর্ষ উদযাপনের জন্য প্রায় ১২ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। তবে এই ব্যয়ের প্রমাণ এবং হিসাব-নিকাশ নেই বলে দাবি করেছেন রাকসুর নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ। বুধবার রাকসু ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাকসুর নতুন নেতৃত্ব জানায়, শপথ গ্রহণের পর প্রথম কার্যনির্বাহী সভায় তারা আশা করেছিলেন, বিগত বছরের ব্যয় ও তহবিলের অডিটসহ রাকসুর অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। কিন্তু বর্তমান সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ সেই তথ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা বলেন, “দীর্ঘ ৩৬ বছর রাকসু অকার্যকর থাকলেও নিয়মিতভাবে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে রাকসুর সভাপতি এবং কোষাধ্যক্ষ ইচ্ছেমতো তহবিলের অর্থ বিভিন্ন ক্ষেতে ব্যয় করেছেন। এখন সেই হিসাব-নিকাশ জানা যাচ্ছে না।”
রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, “রাকসু ফান্ডের ২০১৩ সালের পূর্বের হিসাব নেই। কে কোন খাতে কত টাকা খরচ করেছেন, তা পরিষ্কার নয়। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এর জবাব চাওয়া হবে। যেহেতু এই তহবিল ছাত্রদের কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত, কেউ যদি অনিয়মিতভাবে ব্যয় করেছে, তবে সংশ্লিষ্ট সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে টাকা ফেরত দিতে হবে।”
জিএস সালাহউদ্দীন আম্মার জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের পর থেকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং ২০২১ সাল থেকে অনলাইন হিসাব সংরক্ষিত আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ১৯৯০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত প্রায় ২২ বছরের হিসাব নেই। তিনি বলেন, “মুজিব শতবর্ষ উদযাপনে প্রশাসন প্রায় ১২ লাখ টাকা খরচ করেছে। এর আগে তিন মেয়াদে তারা ফান্ড ব্যবহার করেছে, যার কোনো স্পষ্ট হিসাব নেই। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।”
রাকসু কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেতাউর রহমান বলেন, “মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন হলে শিক্ষার্থীদের জন্য ফান্ড থেকে অর্থ দেওয়া হয়েছে। এটি আইনসিদ্ধ ছিল কি না তা বলা এখনো কঠিন। যদি বৈধ হয়, ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অন্যথায়, যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের কাছ থেকে বা বর্তমান প্রশাসনের মাধ্যমে টাকা ফেরত নেওয়া সম্ভব।”
উল্লেখ্য, ১৯৮৯-৯০ সেশনের রাকসুর ১৪তম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ১৬ অক্টোবর ১৫তম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নবনির্বাচিত নেতৃত্বের বক্তব্যে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে রাকসু কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও তহবিলের ব্যয় চলছে, যা স্বচ্ছতার অভাবে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ আরও জানান, তারা রাকসু তহবিলের স্বচ্ছতা এবং ব্যয়ের সঠিক হিসাব নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে ফান্ড ব্যবহারের নিয়মনীতি আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে, যাতে ছাত্রদের কল্যাণে অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
রাকসুর এই পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটির মধ্যে স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে। নবনির্বাচিত নেতৃত্ব আশা করছে, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পুরনো হিসাব যাচাই এবং ফান্ডের ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণরূপে স্বচ্ছ করা সম্ভব হবে।