প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
টাঙ্গাইল-৩ ঘাটাইল আসনের আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সদ্য ঘোষিত প্রার্থী এসএম ওবায়দুল হক নাসিরের মনোনয়নকে বিতর্কিত মনে করে সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদের সমর্থকরা বুধবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। মিছিলটি ঘাটাইলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একটি অংশে অবস্থান নেয়। এই সময় তারা দলীয় নেতৃত্বের প্রতি তাদের দাবি জানান, অবিলম্বে নাসিরের নাম বাদ দিয়ে লুৎফর রহমান খান আজাদকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইল-৩ আসনে নাসির প্রার্থী হলে নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হবেন। নেতাকর্মীরা দাবি করেন, এই আসনে একমাত্র যোগ্য প্রার্থী হলেন সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান খান আজাদ। তাদের মতে, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা তাকে জয় নিশ্চিত করবে। তাই দলীয় মনোনয়নে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা অতীব জরুরি।
মিছিল ও সমাবেশ চলাকালে নেতাকর্মীরা উক্ত সড়কে অবস্থান নিয়ে জোরালোভাবে তাদের দাবি জানান। তারা বলেন, দলের স্বার্থে ও নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে অবশ্যই লুৎফর রহমান খান আজাদকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত। এই দাবির সঙ্গে সাথে তারা দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখলেও নাসিরের মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিকর মনে করছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের বিক্ষোভ ও সমাবেশ স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। তারা জানান, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নির্বাচনকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি জনমতের দিক থেকেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে, ভোটারদের কাছে প্রার্থী নির্বাচনের যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের মধ্যে আরও উল্লেখযোগ্য, নাসিরের নির্বাচনী এলাকা আসলে টাঙ্গাইলের বাসাইল। ফলে ঘাটাইলের নির্বাচনী প্রার্থী হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা সীমিত এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমর্থনের অভাব রয়েছে। এর ফলে, দলীয় নেতৃত্ব যদি নাসিরকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে, তা স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যে হতাশা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
লুৎফর রহমান খান আজাদের সমর্থকরা জানিয়েছেন, আজাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও মুক্তিযুদ্ধের অবদান তাকে স্থানীয় জনগণের চোখে আস্থা ও সম্মান অর্জন করেছে। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি টাঙ্গাইল-৩ আসনের ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়। নেতাকর্মীরা আশ্বস্ত করছেন, যদি তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাকে সমর্থন করবে এবং নির্বাচন জয় নিশ্চিত হবে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ও সমর্থকের অসন্তোষ প্রকাশিত হলে তা দলীয় সমন্বয়কে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে এ ধরনের উত্তেজনা রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তারা আরও বলেন, দল যদি প্রার্থী নিয়ে কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব বা মতবিরোধ সমাধান করতে ব্যর্থ হয়, তা ভোটারদের মনোভাব ও নির্বাচনী ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘাটাইলের স্থানীয় জনগণও জানান, এই ধরনের বিক্ষোভ ও সমাবেশ তাদের মধ্যে নির্বাচন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে। তারা বলেন, ভোটারদের পক্ষ থেকে প্রার্থীর যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হলে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক হবে।
এদিকে, বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই বিক্ষোভের বিষয়ে অবগত এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। দলীয় নেতৃত্ব আশা করছে, শিগগিরই বিষয়টি সমাধান হবে এবং নির্বাচনে দলীয় একতা বজায় থাকবে।
টাঙ্গাইল-৩ আসনের এই রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রমাণ করছে, নির্বাচনের আগেই দলীয় অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনমতকে গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের বিক্ষোভ ও সমাবেশ শুধু স্থানীয় প্রার্থীর জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে না, বরং দলের নির্বাচনী কৌশল ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের দিকে সতর্ক দৃষ্টি দেয়।