পরিবেশ বিশেষজ্ঞের আহ্বান: উন্নয়নশীল দেশগুলো একসাথে কাজ করুন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৭ বার
পরিবেশ বিশেষজ্ঞের আহ্বান: উন্নয়নশীল দেশগুলো একসাথে কাজ করুন

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উন্নয়নশীল দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাইরের অর্থায়ন না থাকলেও আঞ্চলিক সহযোগিতা, কমিউনিটি ক্ষমতায়ন এবং মানুষকেন্দ্রিক নীতি প্রাধান্য দিতে হবে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “মানুষ যদি জলবায়ু বিপর্যয়ে ভোগে এবং নিরাপদ পানি না পায়, তবে উন্নয়নের কোনো অর্থ থাকে না।” তিনি ব্যয়বহুল মেগা প্রকল্প থেকে সরে এসে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষায় মনোযোগ দেওয়ার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার রাতে ইসলামাবাদের মোভেনপিক সেন্টোরাসে আয়োজিত ২৮তম সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্সের সম্মানিত অতিথিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার, সিভিল সোসাইটি এবং বেসরকারি খাত একযোগে কাজ করলে জনগণের হতাশা ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তিতে রূপ নিতে পারে। তার মতে, প্রকৃত স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তুলতে হবে নিচ থেকে — সহযোগিতা, আচরণগত পরিবর্তন এবং নতুনভাবে জনআস্থা অর্জনের মাধ্যমে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সতর্ক করে দেন যে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন ও সংকীর্ণ স্বার্থপরতা জাতীয় ও আঞ্চলিক অগ্রাধিকারকে দুর্বল করে দিচ্ছে, যার ফলে যৌথ অগ্রগতির সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে। তিনি শ্রীলঙ্কা থেকে নেপাল পর্যন্ত সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এমন অস্থিরতাই হতে পারে শাসনব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা, অর্থনৈতিক পথপরিক্রমা নতুন করে নির্ধারণ এবং তরুণ নেতৃত্বকে এগিয়ে আনার সুযোগ।

বিশ্বব্যাপী তরুণদের আন্দোলনের প্রসঙ্গেও তিনি আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন, আজকের যুবসমাজ শুধু জলবায়ু ন্যায়বিচারই নয়, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মর্যাদাও দাবি করছে। সৈয়দা রিজওয়ানা সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতের পৃথিবীতে যেখানে খাদ্য-পানির সংকট, চরম আবহাওয়া এবং জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি বাড়বে—তা হবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অসহনীয়, যদি এখনই কাঠামোগত সংস্কার না আনা হয়।

এসডিজি ও জলবায়ু অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতির ঘাটতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “উন্নয়নশীল দেশগুলোকে একটি সুন্দর এসডিজি মেন্যু দেওয়া হয়েছে, কিন্তু অর্ডার দেওয়ার মতো সম্পদ দেওয়া হয়নি।” তিনি অন্তঃসারশুন্য ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ এবং জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচারের বদলে ঋণ দেওয়ার নীতি সমালোচনা করেছেন।

অনুষ্ঠানে ২৩টি দেশের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান পাকিস্তানের অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট সৈয়দ ইউসুফ রাজা গিলানি। আরও বক্তব্য দেন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউট (এসডিপিআই)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. আবিদ কিউ. সুলেরি এবং পাথ-এর এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ অঞ্চলের প্রধান নাবিল গোহীর।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “একটি দেশের উন্নয়ন তখনই কার্যকর হবে যখন জনগণ নিরাপদ পানি, খাদ্য এবং জীবনধারার মৌলিক অধিকার পাবে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষায় না এনে শুধু বড় প্রকল্পে অর্থ খরচ করলে বাস্তব ফলাফল আসে না। তাই আমাদের স্থানীয় ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হতে হবে স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলা, যা কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, বরং মানুষের জীবনের গুণমান বৃদ্ধি করবে। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন কাটিয়ে আমরা যদি একসাথে কাজ করতে না পারি, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা আরও কঠিন হয়ে যাবে।”

সৈয়দা রিজওয়ানা আশা প্রকাশ করেন যে, বিভিন্ন দেশের সরকার, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাত একসাথে কাজ করলে এসডিজি অর্জন এবং জলবায়ু প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান সম্ভব হবে। তিনি সতর্ক করেছেন, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে পরবর্তী প্রজন্মকে আরও বড় সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।

উক্ত কনফারেন্সে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন: উন্নয়নশীল দেশগুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে, শক্তি এবং সম্পদ ভাগাভাগি করতে হবে, এবং মানুষের কল্যাণকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে জলবায়ু নীতি তৈরি করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত