প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের রাজনীতিতে নতুন প্রাণবন্ত চিত্রের সূচনা করেছে। ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করার পর দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। দলীয় প্রার্থীরা এখন নির্বাচনি প্রচারণার মাধ্যমে মাঠে নেমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছেন। স্থানীয় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার এবং নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই প্রচারণা। বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর মনোনয়নবঞ্চিত নেতাকর্মীরাও নিজের ক্ষোভ প্রকাশের কিছুটা চেষ্টার পর অনেকেই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় জানিয়েছেন, এটি প্রথম ধাপের ঘোষণা এবং যে কোনো সময় প্রার্থী তালিকা পরিবর্তন হতে পারে। তিনি মনোনয়নবঞ্চিতদের আশ্বস্ত করে বলেন, যারা মনোনয়ন পাননি, তাদের জন্য ইনশাআল্লাহ যথাযথ দায়িত্ব ও সম্মান দেওয়া হবে। এই বক্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নেমে দুই ধরনের চমক নিয়ে ভোটারদের সামনে হাজির হতে যাচ্ছে। প্রথম চমক হলো দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন। তিনি দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসন থেকে ভোটে লড়বেন। দ্বিতীয় চমক হলো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি অংশগ্রহণ। তিনি প্রথমবারের মতো বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। দুই শীর্ষ নেতা একই সঙ্গে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করলে ভোটের হিসাব এবং ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দেয়। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দল সরকার থেকে বুলেটপ্রুফ গাড়ি ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে।
বিএনপি প্রার্থীরা স্থানীয় গণসংযোগ ও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। যদিও দলীয় নির্বাচনি ইশতেহার এখনও প্রকাশিত হয়নি, ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছেন এবং স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। দলের স্থানীয় নেতাদের মধ্যে প্রচারণার সময় মনোনয়নবঞ্চিতদের ক্ষোভও লক্ষ্য করা গেছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, মাদারীপুরের ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এবং শরীয়তপুর, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ায় মনোনয়নবঞ্চিতদের বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভ দেখা গেছে। এ অবস্থায় মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার মনোনয়ন স্থগিত করা হয়।
বগুড়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করার ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়ে প্রার্থীরা গনসংযোগ চালাচ্ছেন, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সমর্থন চাচ্ছেন। ভোটাররা দীর্ঘদিন পর ভোটের সুযোগ ফিরে পাওয়ায় নির্বাচনী উত্তেজনা ও উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছে। লক্ষ্মীপুর-২, ঢাকা-৪, ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৬ ও ভোলা-৪ আসনে মনোনীত প্রার্থীরাও গণমিছিল ও লিফলেট বিতরণসহ স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছেন।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নেতারা মনে করছেন, সাধারণ মানুষ দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর এবার ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছেন। মনোনয়নপ্রাপ্ত ও মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা একত্রিত হয়ে ভোটারদের সমর্থন পেতে মাঠে নামছেন। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি প্রচারণা ও তৃণমূলের একতা ভোটের ফলাফলের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য সাফল্য শুধু দলীয় শক্তি নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ও অংশগ্রহণকে প্রাধান্য দেয়ার দিকনির্দেশক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর ফলে দেশের রাজনীতিতে নতুন গতিবিধি তৈরি হচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি প্রচারণা, মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মাঠে সক্রিয়তা, মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সঙ্গী হওয়া এবং ভোটারদের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণা এখন দেশের রাজনৈতিক আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।