দুই ভাই হত্যার মামলায় নরসিংদীতে প্রধান আসামিসহ তিনজন আটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৬ বার
দুই ভাই হত্যার মামলায় নরসিংদীতে প্রধান আসামিসহ তিনজন আটক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

নরসিংদীর রায়পুরায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় চাচাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রায়পুরার সাপমারা এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন নিহত দুই ভাইয়ের চাচা মো. আবদুল আওয়াল (৬০), তার মেয়ে শাহনাজ বেগম (২৮) এবং তাঁর স্বামী শিপন শিকদার (৩২)। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে রায়পুরার পশ্চিম পাড়ায় ঘটে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ড। নিহতরা হলেন আবু তাহের মিয়ার ছেলে হুরুন আলী ওরফে হুরা (৩০) ও শাকিল মিয়া (২২)। নিহত দুই ভাই রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং এলাকায় পরিচিত ছিলেন। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ ছিল মাত্র এক শতাংশ জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ।

ঘটনার পরপরই নিহত দুই ভাইয়ের মা জোসনা বেগম ১১ জনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় মামলা করেন। ঘটনার তদন্তে পুলিশের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়, প্রথমে হত্যার ঘটনায় চাচা আওয়ালের স্ত্রী শরীফা বেগম (৫২) এবং দুই মেয়ে আরজিনা আক্তার (২২) ও আসমা আক্তার (১৮)কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িততার প্রমাণ পাওয়া গেলে পরে চার্জশিটভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার আরও একটি ধাপ অনুসারে মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ালের ছেলে শিপন মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে এই চারজনই আদালতের নির্দেশে কারাগারে রয়েছেন। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ বলেন, “জমি বিরোধে সংঘটিত এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের মামলায় মোট ১১ জন এজাহারভুক্ত আসামি রয়েছে। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের দিন স্থানীয় পরিবেশে আতঙ্ক ও সন্ত্রাসের ছাপ পড়ে। এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে উত্তেজনা অনুভব করছিলেন। এ ঘটনায় শোক ও ক্ষোভের ছাপ পড়েছে স্থানীয় জনগণের মধ্যে। তারা আশা করছেন, অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলকভাবে শাস্তি পাবেন।

স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। নিহত দুই ভাইয়ের পরিবার এবং প্রতিবেশীরা পুলিশের দ্রুত ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচারের আশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন। তবে পরিবারটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় নজর রাখবেন যাতে হত্যাকারীরা দ্রুত শাস্তি পায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পারিবারিক সম্পত্তি বা জমি সংক্রান্ত বিরোধ প্রায়ই দেশে এই ধরনের সংঘাতের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করে। রায়পুরার এই হত্যাকাণ্ডও তারই এক দুঃখজনক উদাহরণ। প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আশা করছে, এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে অন্যদের জন্যও একটি শক্তিশালী বার্তা যাবে যে আইন প্রয়োগ ও ন্যায়বিচার অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

এই হত্যাকাণ্ড ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার ফলে রায়পুরা উপজেলায় শোক ও নিরাপত্তা জাগ্রত রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এখন প্রয়োজন আইনের প্রতি আস্থা বজায় রাখা এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা।

পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি বলছেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে মামলা দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে এগোয়। তারা আশা করছেন, সম্পূর্ণ তদন্ত শেষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা সম্ভব হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের এই কার্যক্রম সামাজিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত