ঢাকা-১০ আসনে ভোটার হচ্ছেন আসিফ মাহমুদ, জোরালো হচ্ছে প্রার্থিতা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৭৪ বার
ঢাকা-১০ আসনে ভোটার হচ্ছেন আসিফ মাহমুদ, জোরালো হচ্ছে প্রার্থিতা

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হতে যাচ্ছেন—এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সূত্র। আজ রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় ধানমন্ডি থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটার হওয়ার আবেদন করবেন বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে রাজধানীর অন্যতম আলোচিত আসনটিতে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

আসিফ মাহমুদের এই পদক্ষেপকে অনেকেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন। কয়েকদিন আগে এক জনপ্রিয় টকশোতে তিনি প্রকাশ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এবার রাজধানী ঢাকা থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। তাই ধানমন্ডি ও সংলগ্ন এলাকার অন্তর্ভুক্ত ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হিসেবে নাম নিবন্ধন তার সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে আসিফ মাহমুদ কুমিল্লা-৩ আসনের মুরাদনগর এলাকার ভোটার। তবে রাজধানী ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই তার রাজনৈতিক ও পেশাগত কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল। তিনি বিভিন্ন সময় স্থানীয় সরকার উন্নয়ন, নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সরকারি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক পরিসরেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসিফ মাহমুদের ঢাকায় ভোটার হওয়া এবং সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। কারণ ঢাকা-১০ আসনটি সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও হাজারীবাগ থানা নিয়ে গঠিত এই আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই রাজনৈতিকভাবে সচেতন এলাকার অন্তর্ভুক্ত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক কেন্দ্র এবং তরুণ ভোটারের আধিক্য থাকায় এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবসময়ই বেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যেই আসনটিতে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে বিএনপি এখনও এ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। ফলে আসিফ মাহমুদের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী রাজনৈতিক শিবির উভয়েই পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রাজধানীর রাজনৈতিক মহল বলছে, তিনি যদি এই আসনে মনোনয়ন পান, তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ভিন্ন মাত্রার।

ধানমন্ডি ও সংলগ্ন এলাকাগুলোর কিছু ভোটার ইতোমধ্যেই তার পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। স্থানীয়দের কেউ কেউ জানিয়েছেন, আসিফ মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন এবং বিভিন্ন উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন। তারা মনে করেন, তার মতো তরুণ, শিক্ষিত এবং নীতি-নিষ্ঠ ব্যক্তি রাজনীতিতে এলে তা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

তবে সমালোচকেরা বলছেন, রাজধানীতে ভোটার হয়ে আসিফ মাহমুদের রাজনৈতিক অবস্থান হয়তো কৌশলগত পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে নিজের প্রভাব বাড়ানোর অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তারা মনে করছেন, একজন সরকারি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় এমন রাজনৈতিক প্রস্তুতি প্রশ্ন তুলতে পারে নিরপেক্ষতা নিয়ে।

এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসিফ মাহমুদের ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হবে। প্রয়োজনীয় নথি ও ঠিকানা যাচাই শেষে নির্বাচন কমিশন তার আবেদন অনুমোদন করবে বলে জানা গেছে।

রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে—আসিফ মাহমুদ সত্যিই কি ঢাকা-১০ আসন থেকেই নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন? নাকি এটি তার রাজনৈতিক কৌশলের একটি প্রাথমিক ধাপ মাত্র? সময়ই হয়তো সেই উত্তর দেবে।

তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি রাজধানীর রাজনীতিতে নিজের উপস্থিতি আরও সুদৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিলেন। তার এই উদ্যোগের ফলে শুধু ঢাকা-১০ আসন নয়, বরং পুরো রাজধানীর রাজনীতিতেই নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এই আলোচনার তীব্রতা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তরুণ ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাব যেভাবে দেশের রাজনীতিতে প্রকট, সেখানে আসিফ মাহমুদের মতো একজন নবীন নেতৃত্বের আগমন ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। তিনি যদি সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেন, তবে তা তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিতে আগ্রহ বাড়াবে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চিন্তাভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

সব মিলিয়ে, আসিফ মাহমুদের ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত এখন শুধু প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিষয় নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এই আসন থেকে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা এখন রাজধানীর রাজনৈতিক হাওয়া বদলের এক নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে—যা হয়তো ভবিষ্যৎ রাজনীতির দৃশ্যপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত