লেভানডোভস্কির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে উজ্জ্বল বার্সেলোনা, লা লিগায় দুইয়ে জাভির দল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৬ বার
লেভানডোভস্কির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে উজ্জ্বল বার্সেলোনা, লা লিগায় দুইয়ে জাভির দল

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইনজুরির কারণে মৌসুমের শুরু থেকেই ভুগছিলেন বার্সেলোনার পোলিশ তারকা রবার্ট লেভানডোভস্কি। তবে রোববার রাতে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে মাঠে নেমে তিনি যেন নিজের পুরোনো রূপেই ফিরে এলেন। দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকে দলকে জিতিয়ে শুধু গোলেই নয়, পারফরম্যান্সেও প্রমাণ করেছেন, কেন তিনি এখনো বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। তার নেতৃত্বে বার্সেলোনা প্রতিপক্ষের মাঠে ৪-২ গোলের জয়ে পায় গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট, যা দলটিকে লা লিগার পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে তুলে দিয়েছে।

রবিবার রাতে সেল্টা ভিগোর মাঠে খেলা শুরু থেকেই বার্সেলোনা ছন্দে ছিল। জাভি হার্নান্দেজের দল বল দখল ও আক্রমণ গঠনে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখে। পুরো ম্যাচে প্রায় ৬৩ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল বার্সার পায়ে, আর তারা গোলের উদ্দেশ্যে মোট ২১টি শট নেয়, যার মধ্যে ৯টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, সেল্টা ভিগোও লড়াইয়ে পিছিয়ে ছিল না; তাদের ছয়টি শটের মধ্যে চারটিই ছিল বার্সার পোস্ট বরাবর।

ম্যাচের দশম মিনিটেই গোলের দেখা পায় বার্সেলোনা। সেল্টার ডিফেন্ডার মার্কোস আলোন্সোর হাতে বল লাগায় রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। সুযোগটি কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি লেভানডোভস্কি। ঠান্ডা মাথায় নেওয়া স্পট কিকে বল জালে জড়ান তিনি, এগিয়ে দেন দলকে। তবে আনন্দ স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। মাত্র এক মিনিট পরই সেল্টার পক্ষে সার্জিও ক্যারেইরা গোল করে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনেন।

এরপর খেলার গতি আরও বেড়ে যায়। দুই দলই পাল্টা আক্রমণে একে অপরের গোলপোস্টে হুমকি দিতে থাকে। ২৫তম মিনিটে বার্সার আরেক আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে ৩৭তম মিনিটে আর ভুল করেননি র‍্যাশফোর্ড। তার নিখুঁত ক্রস থেকে দ্বিতীয় গোলটি করেন লেভানডোভস্কি। সেই সঙ্গে নিজের জোড়া গোল সম্পূর্ণ করে দলকে আবার এগিয়ে দেন ২-১ ব্যবধানে।

কিন্তু সেল্টা ভিগোও হার মানার দল নয়। প্রথমার্ধের শেষ দিকেই বোর্হা ইগ্লেসিয়াসের গোল করে আবারও সমতায় ফেরে স্বাগতিক দল। ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে যোগ করা সময়ে আবারও এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। এবার গোলের দেখা পান তরুণ প্রতিভা লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ইয়ামাল এখন বার্সার আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা। তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বিরতির আগে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জাভির শিষ্যরা।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার পর বার্সেলোনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় খেলায়। মিডফিল্ডে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, পেদ্রি ও গাভির পাসিংয়ের জাদুতে প্রতিপক্ষ যেন পথ হারিয়ে ফেলে। একের পর এক আক্রমণে সেল্টা ডিফেন্স বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ৭৩ মিনিটে সেই চাপেরই ফল আসে। কর্নার থেকে মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের নিখুঁত ক্রসে হেড করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রবার্ট লেভানডোভস্কি। তিন গোল করে তিনি প্রমাণ করলেন, ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা মানেই আরও ধারালো রূপে বার্সার মূল অস্ত্র হয়ে ওঠা।

ম্যাচের শেষ দিকে কিছুটা নাটকীয়তা দেখা দেয়। ৮৮তম মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় বার্সেলোনার মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংকে। ফলে তিনি আগামী ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকবেন। তবে এই লাল কার্ড বার্সার জয়ে কোনো প্রভাব ফেলেনি। ৪-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালান ক্লাব।

এই জয়ের ফলে ১২ ম্যাচে ৯ জয় ও ১ ড্রয়ে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ১৩তম স্থানে রয়েছে সেল্টা ভিগো। লিগের শীর্ষে রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ, যাদের পয়েন্ট এখন ৩১।

লেভানডোভস্কির এই হ্যাটট্রিক কেবল বার্সেলোনার জয়ের গল্প নয়, এটি ছিল এক অনুপ্রেরণার অধ্যায়ও। মৌসুমের শুরুতে একের পর এক ইনজুরিতে ভুগে যখন অনেকেই তার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তখন এই ম্যাচে তিনি যেন নীরব জবাব দিয়েছেন। প্রতিটি গোলের পর তার মুখে ফুটে ওঠা আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার ছাপ যেন বার্তা দিয়েছে—লেভানডোভস্কি এখনো থামেননি, তিনি ফিরেছেন আগের চেয়েও শক্তভাবে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

খেলার পর সংবাদ সম্মেলনে বার্সা কোচ জাভি হার্নান্দেজ বলেন, “লেভা (লেভানডোভস্কি) আমাদের জন্য বিশেষ খেলোয়াড়। তার অভিজ্ঞতা ও দৃঢ় মানসিকতা পুরো দলকে অনুপ্রাণিত করে। আজকের পারফরম্যান্সে আমরা তাকে পুরোনো দিনের মতো পেয়েছি।”

অন্যদিকে ম্যাচশেষে লেভানডোভস্কি বলেন, “আমি জানতাম আমার গোলের সময় আসবে। ইনজুরির পর নিজেকে প্রস্তুত করতে কঠোর পরিশ্রম করেছি। আজকের জয় আমার জন্য নয়, পুরো দলের জন্য।”

বার্সেলোনার এই জয় আবারও লা লিগার শিরোপা লড়াইকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। মৌসুমের মাঝপথে এসে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মধ্যে ব্যবধান মাত্র তিন পয়েন্টে নেমে এসেছে। সামনের ‘এল ক্লাসিকো’ এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, যেখানে দুই দলের এই পারফরম্যান্স নির্ধারণ করতে পারে পুরো মৌসুমের গতিপথ।

সেল্টা ভিগোর মাঠে এই জয় শুধু তিন পয়েন্টের নয়, এটি আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারেরও জয়। তরুণ ইয়ামাল, অভিজ্ঞ লেভানডোভস্কি ও কোচ জাভির মেলবন্ধনে নতুন করে আশার আলো দেখছে কাতালান সমর্থকরা। এক কথায়, সেল্টার বিপক্ষে এই ম্যাচটি যেন ঘোষণা করল—বার্সেলোনা আবার জেগে উঠেছে, এবং লেভানডোভস্কি ফিরেছেন তার গোলের রাজত্বে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত