জেল-জুলুম সহ্য করা নেতাকর্মীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার শামা ওবায়েদের

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৯ বার
জেল-জুলুম সহ্য করা নেতাকর্মীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার শামা ওবায়েদের

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ রইছা দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের ভোটে কেউ যেন হাত না দেয়, সেই বিষয়ে প্রতিটি নেতাকর্মীকে সজাগ থাকতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় আদর্শে অবিচল থেকে জেল-জুলুম সহ্য করা নেতাকর্মীদের জন্য সুখবরও দিয়েছেন এই বিএনপি নেত্রী।

রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত আসাদ মাতুব্বরের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় সালথা উপজেলার মাঝারি আকারের এক মাঠে, যেখানে সকাল থেকেই স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের শত শত নেতাকর্মী জড়ো হতে থাকেন। স্মরণসভা শুরুর আগেই মাঠ ভরে ওঠে শ্লোগানে, “আমার নেতা আমার গর্ব, শামা আপা এগিয়ে চল।”

বক্তৃতায় শামা ওবায়েদ বলেন, “বিএনপি বিশ্বাস করে গণতন্ত্র মানে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। তাই নির্বাচনে বহু দলের প্রার্থী থাকা কোনো সমস্যা নয়। সমস্যা তখনই হয়, যখন জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। ফরিদপুর-২ আসনে অনেক প্রার্থী রয়েছেন, আমরা তাদের স্বাগত জানাই। কিন্তু যারা অতীতে স্বৈরাচারী সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন, আজ যদি উন্নয়নের গল্প বলেন, তখন সত্যিই হাসি পায়।”

তিনি বলেন, “আমরা চাই জনগণ নিজের ভোট নিজে দিক। বিএনপি কখনো জোর করে কিছু নেয়নি, আর নিতেও চায় না। ধানের শীষের প্রতিটি ভোটই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তাই আপনাদের দায়িত্ব হলো সেই ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কেউ যেন ভয় দেখিয়ে বা টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ভোট কিনে নিতে না পারে।”

জনসভায় উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যারা জেল খেটেছেন, যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কিন্তু দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, তাদের কথা আমরা ভুলব না। বিএনপি যদি আবার ক্ষমতায় আসে, এই সাহসী নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও অবদানই সবচেয়ে বেশি মূল্যায়িত হবে। জেল-জুলুম সহ্য করা মানুষদের জন্যই আমরা রাজনীতি করি, তাদের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের লক্ষ্য।”

তার বক্তব্যে রাজনৈতিক আবেগের পাশাপাশি স্পষ্ট ছিল উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি। তিনি বলেন, “সালথা, নগরকান্দা ও ভাঙ্গা—এই তিনটি অঞ্চলে এখনো অনেক সম্ভাবনা অনাবিষ্কৃত। আমরা যদি সুযোগ পাই, এখানে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। ফরিদপুর একসময় ছিল কৃষিনির্ভর এলাকা, কিন্তু আমরা চাই এটি প্রযুক্তি ও শিক্ষায়ও সমৃদ্ধ হোক।”

সভায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন পর এমন একটি খোলামেলা রাজনৈতিক বক্তব্য শুনে অনেকে শামা ওবায়েদের প্রশংসা করেন। সালথার স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহিনুজ্জামান বলেন, “আমরা জানি শামা আপা শুধু কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করেন। তিনি সব সময় মাঠে থাকেন, নেতা-কর্মীদের খোঁজ নেন। আজকের বক্তব্য আমাদের আরও সাহস দিয়েছে।”

স্মরণসভায় প্রয়াত আসাদ মাতুব্বরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “আসাদ ভাই ছিলেন দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ একজন সৈনিক। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি বিএনপির পতাকা ধরে রেখেছিলেন। তার মতো মানুষই আমাদের অনুপ্রেরণা। আমি তার পরিবারের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহিন মাতুব্বর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, সালথা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, যুবদল নেতা হাসান আশরাফসহ স্থানীয় পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী। তারা সবাই শামা ওবায়েদের বক্তব্যের পর “গণতন্ত্রের জন্য ঐক্যবদ্ধ হোন” স্লোগানে মেতে ওঠেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফরিদপুর-২ আসনে এই নির্বাচনটি হতে যাচ্ছে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। একদিকে ক্ষমতাসীন দলের শক্তিশালী প্রার্থী, অন্যদিকে জনপ্রিয় ও তরুণ প্রজন্মে প্রভাবশালী বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ। তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, শিক্ষা, এবং সামাজিক যোগাযোগে সক্রিয় উপস্থিতি ইতোমধ্যেই তাকে স্থানীয় ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

এলাকার এক প্রবীণ শিক্ষক বলেন, “শামা আপা শুধু রাজনীতিক নন, তিনি সমাজের এক অনুপ্রেরণাদায়ী নারী। যেভাবে তিনি নিপীড়নের মুখেও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন, তা তরুণ প্রজন্মের জন্য উদাহরণ।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে শামা ওবায়েদ একটি শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তিনি শুধু নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধিই নন, বরং একটি দৃঢ় ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ধারার প্রতিফলন। তার বক্তব্যে যেমন মানবিক আবেদন থাকে, তেমনি থাকে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা।

সভা শেষে বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রয়াত আসাদ মাতুব্বরের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন। এরপর স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন শামা ওবায়েদ। সাধারণ মানুষের মুখেও ছিল আশাবাদ—যদি সুষ্ঠু ভোট হয়, তাহলে এবার ধানের শীষের জয় নিশ্চিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মাঠ পর্যায়ে শামা ওবায়েদের এই সক্রিয়তা বিএনপির জন্য এক বড় ইতিবাচক বার্তা। কারণ, দলের দীর্ঘ সময়ের স্থবিরতা কাটিয়ে তিনি যেভাবে জনসংযোগে ব্যস্ত রয়েছেন, তা আগামী নির্বাচনে ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

সবশেষে শামা ওবায়েদ বলেন, “আমাদের লড়াই কারও বিরুদ্ধে নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আমরা চাই ন্যায়বিচার, আমরা চাই জনগণের অধিকার। জেল-জুলুম আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না। একদিন না একদিন এই দেশের মানুষ সত্যিকারের গণতন্ত্র ফিরে পাবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত