প্রকাশ: ১০ নভেম্বর সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেটের ব্যবহার রোধ করতে ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার বা এনইআইআর (NEIR) ব্যবস্থা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ব্যবস্থা চালু হলে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নিবন্ধনবিহীন, চুরি হওয়া বা অনুমোদনবিহীন আমদানি হওয়া ফোন ব্যবহার করা যাবে না।
এ ঘোষণার পর ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকে জানতে চাচ্ছেন, তাদের হাতে থাকা ফোন কি এই ব্যবস্থায় বৈধ হবে, নাকি বন্ধ হয়ে যাবে। বিষয়টি বোঝার জন্য জানা জরুরি, NEIR আসলে কী। এটি হলো একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস যেখানে দেশের সব বৈধ মোবাইল ফোনের IMEI (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর সংরক্ষিত থাকবে। প্রতিটি ফোনের IMEI নম্বর তার ‘ডিজিটাল পরিচয়পত্র’ হিসেবে কাজ করবে। যদি কোনো ফোন সরকার অনুমোদিত ডেটাবেসে নিবন্ধিত না থাকে, তবে সেটি কোনো মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হবে না।
বিটিআরসি জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক অনিবন্ধিত ফোন ব্যবহৃত হচ্ছে। এসবের মধ্যে অনেক ফোন বিদেশ থেকে আনা, কিছু উপহার হিসেবে পাওয়া এবং কিছু ক্লোন বা নকল মডেল। NEIR কার্যকর হলে এই সব অনিবন্ধিত ফোন ক্রমে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। অর্থাৎ ফোনটি চালু থাকলেও কল বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে না। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যারা বৈধভাবে ফোন কিনেছেন কিন্তু এখনো নিবন্ধন করেননি, তারা ১৬ ডিসেম্বরের আগে ফোন নিবন্ধন করতে পারবেন। বিটিআরসি শিগগিরই নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিস্তারিত ঘোষণা করবে।
নিজের ফোন নিবন্ধিত কি না তা সহজে যাচাই করা যাবে। IMEI নম্বর (যা *#06# ডায়াল করে পাওয়া যায়) লিখে 16002 নম্বরে SMS পাঠাতে হবে। SMS-এর ফরম্যাট হবে: KYD IMEI নম্বর। উত্তরে জানানো হবে, আপনার ফোন বৈধ ও নিবন্ধিত কি না।
এই ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বেশ কয়েকটি কারণে। দেশে ২০১৭ সাল থেকে মোবাইল উৎপাদন শুরু হলেও বাজারে এখনো ৬০ শতাংশ ফোন অনিবন্ধিত। এর ফলে দেশ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এছাড়া প্রতি বছর হাজার হাজার ফোন চুরি হয় এবং অনেকে আবার ক্লোন বা নকল মডেল হিসেবে বিক্রি হয়। এই অবৈধ বাজার শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করছে। NEIR ব্যবস্থা চালু হলে চুরি হওয়া ফোন ট্র্যাক করা সহজ হবে এবং অবৈধ আমদানিকারকদের কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত হবে।
বাজার এবং ভোক্তাদের জন্যও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিক্রেতারা মনে করছেন, প্রথমদিকে কিছু বিভ্রান্তি থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে। ভোক্তারা নিশ্চিত থাকবেন, যে ফোন কিনছেন তা আসল ও নিরাপদ।
সরকারও জানিয়েছে, ১৬ ডিসেম্বরের পর কোনো অনিবন্ধিত ফোন নেটওয়ার্কে কাজ করবে না। তাই যারা বিদেশ থেকে আনানো, উপহার বা পুরোনো ফোন ব্যবহার করছেন, তারা দ্রুত IMEI নম্বর যাচাই করে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন সম্পন্ন করুন। এই ব্যবস্থার ফলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকবে না, দেশের মোবাইল খাতও আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ হবে।