প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সেনা সদস্যদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সেনাপ্রধান। সোমবার (১০ নভেম্বর) যশোর সেনানিবাসস্থ সিগন্যাল ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুল (এসটিসিএন্ডএস)-এ অনুষ্ঠিত কোর অব সিগন্যালস’র বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে অংশগ্রহণকালে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল সিনিয়র কর্মকর্তা ও কমান্ডারগণ এই বার্তাকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেন।
সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, কোর অব সিগন্যালসের সদস্যরা স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মত্যাগ করেছেন এবং দেশের নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও সেবার ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করছেন। দেশ ও জাতি গঠনে তাঁদের অবদান অতুলনীয়। বিশেষত, সিগন্যাল কোরের সদস্যরা দেশমাতৃকার সেবায় নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। তাঁরা প্রযুক্তিগত দিক থেকে সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকেন, যা সেনাবাহিনীর দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।
সেনাপ্রধান আরও বলেন, সততা, সত্যনিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধে ব্রতী হয়ে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে কোর অব সিগন্যালসের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামরিক সদস্যরা নতুন প্রযুক্তি আয়ত্তে সক্ষম হবেন, যাতে দেশে সন্ত্রাস, নাশকতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, আধুনিক যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে সেনাবাহিনী আরও বেশি সময়োপযোগী ও কার্যকরভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম হবে।
অধিনায়ক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান পৌঁছালে তাঁর যথাযথ অভ্যর্থনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানস্থলে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান জিওসি, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক), জিওসি, ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, যশোর এরিয়া এবং কমান্ড্যান্ট, এসটিসিএন্ডএস। সেনাপ্রধানের আগমনে উপস্থিত উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা, সেনাবাহিনীর সকল সিগন্যাল ব্রিগেডের কমান্ডার, সিগন্যাল ইউনিটসমূহের অ্যালায়ক এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্যালুট প্রদান করেন।
সম্মেলনে সেনাপ্রধান সদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, প্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্ভাবন ও আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার বিষয়ে নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রযুক্তিগত দক্ষতা ছাড়া সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ কার্যকর হতে পারবে না। তাই কোর অব সিগন্যালসের সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত হতে হবে।
সেনাপ্রধান বলেন, আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি যেমন যোগাযোগ ব্যবস্থা, সাইবার সিকিউরিটি, ড্রোন ও তথ্য প্রযুক্তি সেক্টরের নতুন উদ্ভাবনগুলো সেনাবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোর অব সিগন্যালসের সদস্যদের এই প্রযুক্তি আয়ত্তে দক্ষ হওয়া গেলে সেনাবাহিনীর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অবদান আরও দৃঢ় হবে।
অধিনায়ক সম্মেলনে সেনাপ্রধান সদস্যদের পেশাগত নৈতিকতা, সততা এবং কর্তব্যনিষ্ঠার দিকেও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সেনাসদস্যদের দায়িত্ব শুধু সামরিক কর্মকাণ্ড নয়; বরং দেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করাও তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব। দেশপ্রেম, কর্তব্যবোধ ও মানবিক মূল্যবোধ সমন্বয়ে সদস্যরা সেনাবাহিনীর গৌরব বৃদ্ধি করবেন।
সেনাপ্রধানের বক্তব্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় কোর অব সিগন্যালসের ঐতিহ্য ও গৌরবকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে প্রবাহিত করার ওপর। তিনি বলেন, কোর অব সিগন্যালস দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এই কোর অব্যাহত থাকবে। প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে নতুন ধারণা ও উদ্ভাবন প্রবর্তনের মাধ্যমে তারা দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
উল্লেখযোগ্য, কোর অব সিগন্যালসের সদস্যরা বিভিন্ন সরকারি ও সামরিক প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দেশমাতৃকার সেবায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তারা সক্রিয়, যা দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেনাপ্রধান এই প্রেক্ষাপটে তাঁদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন, যাতে কোর অব সিগন্যালস সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
অধিনায়ক সম্মেলনের সমাপনীতে সেনাপ্রধান সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, নেতৃত্বের গুণাবলী এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সামরিক দক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি সকলকে উদ্দীপিত করেন, যাতে কোর অব সিগন্যালস দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও জাতীয় উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।
সেনাপ্রধানের এই নির্দেশনা ও গুরুত্বারোপ কোর অব সিগন্যালসের সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। সদস্যরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেশের সেবায় সর্বোচ্চ অবদান রাখবেন।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া সাংবাদিক ও উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরা সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে ইতিবাচক এবং দৃষ্টান্তমূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা মনে করছেন, এটি কোর অব সিগন্যালসের সদস্যদের পেশাগত উন্নয়ন এবং সামরিক প্রযুক্তি গ্রহণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সর্বশেষে, সেনাপ্রধানের উদ্বুদ্ধকরণ কোর অব সিগন্যালসের ইতিহাস, গৌরব এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাদের ভূমিকার গুরুত্বকে আরও প্রাসঙ্গিক ও সুদৃঢ় করেছে। এটি দেশের সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠার শিক্ষার জন্য একটি অনন্য সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।