টস হেরে সিলেট টেস্টে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, হাসান মুরাদের অভিষেক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৪ বার
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়ারল্যান্ড। এই ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হচ্ছে স্পিনার হাসান মুরাদের। অন্যদিকে আইরিশদের হয়ে পাঁচ ক্রিকেটার খেলবেন পাঁচ নতুন ক্রিকেটার।

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। সকালে অনুষ্ঠিত টসে জয় পায় সফরকারী আয়ারল্যান্ড, যারা ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে টস হেরে প্রথমে ফিল্ডিংয়ে নামে বাংলাদেশ। সিলেটের মনোরম আবহাওয়ায় ম্যাচের শুরু থেকেই দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো, বিশেষত নতুন মুখ হাসান মুরাদের অভিষেক ঘিরে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।

বাংলাদেশ দলে এবার বড় চমক তরুণ স্পিনার হাসান মুরাদ। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর অবশেষে লাল বলের জার্সি গায়ে চাপানোর সুযোগ পেলেন তিনি। সাকিব আল হাসান ও নাসুম আহমেদের অনুপস্থিতিতে বাঁহাতি এই স্পিনারকে দলের মূল অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার সঙ্গে স্পিন আক্রমণে আছেন অভিজ্ঞ তাইজুল ইসলাম ও অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। তিন স্পিনারের সমন্বয়ে সাজানো এই একাদশে দুই পেসার হিসেবে আছেন হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানা।

সিলেটের পিচের চরিত্র বিবেচনায় বাংলাদেশ দল এই তিন স্পিনার কৌশল বেছে নিয়েছে। স্থানীয় ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, সিলেটের উইকেট সাধারণত প্রথম দিন কিছুটা সহনশীল থাকলেও, দ্বিতীয় দিন থেকেই স্পিনারদের জন্য বাড়তি টার্ন তৈরি হয়। এমন অবস্থায় আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে ডানহাতি ব্যাটারদের আধিক্য বিবেচনায় বাঁহাতি স্পিনারদের অন্তর্ভুক্তি ছিল কৌশলগত সিদ্ধান্ত। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছেন, দল স্পিন নির্ভর আক্রমণের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছে।

ম্যাচ শুরুর সময় সিলেটের আকাশ ছিল নির্মল, সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ছিল সবুজ গ্যালারিতে। মাঠে উপস্থিত দর্শকরা লাল-সবুজ পতাকা হাতে জাতীয় দলের জন্য চিৎকার করে সমর্থন জানাচ্ছিলেন। অনেকের হাতে ছিল হাসান মুরাদের পোস্টার, কেউ কেউ আবার প্ল্যাকার্ডে লিখেছিলেন— “নতুন স্পিন জাদুর অপেক্ষায় বাংলাদেশ।” এ থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, তরুণ এই স্পিনারের অভিষেককে কেন্দ্র করে জনমনে কতটা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে এবারও নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক শান্ত। তার সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামবেন মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম। মিডল অর্ডারে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক ও লিটন দাসের ওপরই ব্যাটিংয়ের ভার থাকবে। প্রথম ইনিংসে দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারলেই টেস্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন দলের ম্যানেজমেন্ট।

অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ড দলও মাঠে নেমেছে বেশ নতুন একটি স্কোয়াড নিয়ে। তাদের দলে পাঁচজন ক্রিকেটার প্রথমবারের মতো টেস্টে সুযোগ পেয়েছেন। এই নবীন মুখগুলোই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ, কারণ অচেনা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কৌশল নির্ধারণ করা সবসময়ই কঠিন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ দলের নির্বাচকরা জানিয়েছেন, ঘরের মাঠে এই সিরিজকে তরুণদের আত্মপ্রকাশের মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আসন্ন সূচিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্যে এই ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। তারা বিশ্বাস করেন, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে গড়া এই দল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স দেখাবে।

প্রথম সেশনে বোলারদের লাইন-লেন্থে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন অধিনায়ক শান্ত। তিনি টস শেষে বলেন, “উইকেট ব্যাটিং সহায়ক মনে হলেও, সকালে কিছুটা মুভমেন্ট থাকতে পারে। আমরা চেষ্টা করব নতুন বলে দ্রুত উইকেট নিতে। সিলেটে দর্শকদের সমর্থন সবসময়ই আমাদের বাড়তি অনুপ্রেরণা দেয়।”

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

সিলেট টেস্টে তাইজুল ও মিরাজের দায়িত্বও অনেক বেশি। স্পিন আক্রমণের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে দুজনকেই দীর্ঘ স্পেল করতে হতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ পেসার নাহিদ রানা নিজের গতি ও নির্ভুল ইয়র্কারের জন্য পরিচিত। হাসান মাহমুদও ফর্মে আছেন, যা আয়ারল্যান্ডের টপ অর্ডারের জন্য হুমকি হতে পারে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ফিল্ডারদের মনোযোগ ও উদ্দীপনা চোখে পড়ার মতো ছিল। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে মাঠের পাশে বসে নোট নিচ্ছিলেন, মাঝে মাঝে তরুণদের নির্দেশনাও দিচ্ছিলেন। গ্যালারিতে থাকা সমর্থকরাও “বাংলাদেশ, বাংলাদেশ” ধ্বনি তুলে দলের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছিলেন।

প্রথম দিনের খেলায় বাংলাদেশ যদি আয়ারল্যান্ডকে ৩০০ রানের নিচে রাখতে পারে, তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের এক সুবর্ণ সুযোগ, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বিদেশ সফরগুলোর ব্যর্থতার পর।

সব মিলিয়ে সিলেটের রৌদ্রজ্জ্বল সকালে টেস্ট সিরিজের সূচনা হয়েছে নতুন উদ্দীপনায়। তরুণদের এগিয়ে আসা, অভিজ্ঞদের দায়িত্বশীলতা আর দর্শকদের প্রাণোচ্ছল উপস্থিতিতে মাঠ যেন পেয়েছে এক নতুন প্রাণ। এখন শুধু অপেক্ষা বাংলাদেশের বোলারদের প্রথম আঘাতের— যা নির্ধারণ করবে টেস্টের প্রথম দিনের গল্প কোন দিকে মোড় নেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত