লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণ, ভারতজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৩ বার
লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণ, ভারতজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ঐতিহাসিক লাল কেল্লার অদূরে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে, যখন এলাকাটি ছিল পর্যটক ও স্থানীয় নাগরিকদের ভিড়ে মুখর। হঠাৎ করেই প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরিত হয় একটি হুন্ডাই আই-টুয়েন্টি গাড়ি, এবং মুহূর্তের মধ্যেই চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শক্তি এতটাই প্রবল ছিল যে আশপাশের ভবনগুলোর জানালার কাঁচ ভেঙে যায়, অনেকেই আতঙ্কে আশ্রয় খুঁজতে ছুটে যান।

দিল্লি পুলিশের মুখপাত্র সঞ্জয় ত্যাগী জানিয়েছেন, গাড়িটিতে তিনজন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আশপাশের এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত মোট আটজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় প্রায় ৩০ জনকে পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল বাহিনী, পুলিশ, এনএসজি (ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড) এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী। অগ্নিনির্বাপক কর্মকর্তারা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। গাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আশপাশের তিনটি দোকান ও দুটি মোটরসাইকেল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দিল্লির উপপ্রধান অগ্নিনির্বাপক কর্মকর্তা এক মালিক বলেন, “আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি, তবে বিস্ফোরণের তীব্রতা বুঝিয়ে দিচ্ছে এটি পরিকল্পিত ও শক্তিশালী বিস্ফোরক ছিল।”

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

বিস্ফোরণের পর দিল্লি পুলিশ রাজধানীজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। একই সঙ্গে কলকাতা, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদসহ ভারতের সব বড় শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, মেট্রো স্টেশনসহ জনসমাগমস্থলে বিশেষ তল্লাশি অভিযান চলছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা কোনো ঝুঁকি নিচ্ছি না। প্রতিটি গাড়ি, প্রতিটি ব্যাগ এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হচ্ছে।”

বিস্ফোরণের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তদন্ত সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেন দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করতে। তিনি বলেন, “আমরা সব দিক থেকেই তদন্ত করছি। এর পেছনে কারা জড়িত, তা শিগগিরই উদঘাটন করা হবে। জনগণকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করছি।”

ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) ও এনএসজি যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া গাড়ির ধ্বংসাবশেষ, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন সিগন্যাল এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে এটি সন্ত্রাসী হামলা বলেই ধারণা করা হচ্ছে, তবে এখনই কোনো গোষ্ঠীর দিকে সরাসরি আঙুল তোলা হচ্ছে না।

বিস্ফোরণের পরপরই মার্কিন দূতাবাস একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। মার্কিন নাগরিকদের লাল কেল্লা ও চাঁদনি চক এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য বিদেশি দূতাবাসগুলোও তাদের নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি এক বিবৃতিতে বলেন, “এই হামলা মানবতার বিরুদ্ধে। যারা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তারা ন্যায়ের মুখোমুখি হবেই।”

ঘটনার পরপরই দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখা উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং জম্মু-কাশ্মীরে একাধিক অভিযান চালায়। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, তারা প্রাথমিক তল্লাশিতে প্রায় তিন হাজার কিলোগ্রাম বিস্ফোরক, চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বেশ কিছু গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা পুলিশের দাবি অনুযায়ী জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-এ-মুহাম্মদ এবং আনসার গাজওয়াতুল হিন্দের সঙ্গে যুক্ত। তবে দিল্লির বিস্ফোরণের সঙ্গে এই গ্রেফতারের সরাসরি কোনো সম্পর্ক এখনো পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাল কেল্লা এবং তার আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হলেও, এই বিস্ফোরণ সেই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে, দিল্লির মতো কঠোর নজরদারির শহরে এমন হামলা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা নিয়েও নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

বিস্ফোরণের সময় লাল কেল্লায় উপস্থিত অনেক পর্যটক আতঙ্কে দৌড়ে পালান। কেউ কেউ ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন, যা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। এসব ভিডিওতে দেখা যায়, চারদিকে আগুনের শিখা আর ধোঁয়ায় ঢাকা রাস্তায় আহত মানুষ সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন।

রাজধানীর নাগরিকরা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, “আমরা ভাবতেও পারিনি এমন ঘটনা ঘটতে পারে। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে আসে। আল্লাহর রহমতে আমি একটু দূরে ছিলাম।”

ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই বিস্ফোরণ কেবল দিল্লি নয়, বরং সমগ্র দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে। কারণ এটি এমন এক সময় ঘটল, যখন দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা, ধর্মীয় মেরুকরণ এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে সংঘাত বাড়ছে।

এখন নজর সকলের এক জায়গায়—ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)-র রিপোর্টে। সেই রিপোর্টই প্রকাশ করবে, এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের পেছনে কাদের হাত, এবং ভারতের রাজধানীর হৃদয়ে এমন অঘটন কীভাবে ঘটল। যতক্ষণ না সেই উত্তর মিলছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ভারতজুড়ে বিরাজ করবে আতঙ্ক, সতর্কতা এবং এক অজানা অনিশ্চয়তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত