প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশে স্যাটেলাইট ভিত্তিক উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবার অভিজ্ঞতা এবার আরও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের মে মাসে দেশে চালু হওয়া স্টারলিংক সেবা প্রযুক্তিগত দিক থেকে যুগান্তকারী হলেও এককালীন খরচের কারণে অনেকের কাছে এটি ছিল পৌঁছানো দূরস্বপ্ন। সরকারিভাবে নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড কিটের দাম ছিল ৪৭ হাজার টাকা, যা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য প্রারম্ভিক বাধা হিসেবে কাজ করছিল।
তবে স্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্টার টেক এই সেবাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনার জন্য কিস্তিতে কেনার সুবিধা ঘোষণা করেছে। ১০ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা বাংলাদেশে স্টারলিংকের অনুমোদিত খুচরা বিক্রেতা হিসেবে কাজ করছে এবং গ্রাহকদের জন্য সর্বনিম্ন মূল্যে কিট সরবরাহের পাশাপাশি সহজ কিস্তিতে কেনার সুযোগ তৈরি করেছে।
স্টার টেকের ঘোষণায় জানা যায়, গ্রাহকের আর্থিক চাপ কমাতে ০% ইএমআই সুবিধা চালু করা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত পাওয়া যাবে। নগদ ক্রেতাদের জন্যও প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে। স্টারলিঙ্ক মিনি কিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ৮৫০ টাকা এবং স্ট্যান্ডার্ড কিটের দাম হয়েছে ৪৪ হাজার ৫৫০ টাকা।
দেশজুড়ে স্টার টেকের ২০টি শাখা অফিস রয়েছে, যার মধ্যে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও রংপুরে অফিসগুলো অবস্থিত। অনলাইন গ্রাহকরা স্টার টেকের ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে হোম ডেলিভারি সুবিধায় স্টারলিংক কিট অর্ডার করতে পারবেন। কর্পোরেট গ্রাহকদের জন্যও (যেমন ব্যাংক, হাসপাতাল, সরকারি ও বহুজাতিক সংস্থা) হাই-পারফরম্যান্স কিট সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।
স্টার টেকের মুখপাত্র বলেন, “আমরা চাই উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা শুধুমাত্র শহরের নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছাক। কিস্তি সুবিধা চালু করার মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষকে এই সেবা সহজলভ্য করে তোলা। আমাদের আশা, নাগরিকরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের ডিজিটাল প্রগতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা আনবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা বিশেষভাবে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যাংকিং ও ব্যবসায়িক খাতের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এটি গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকায় স্থাপন করা হলে তথ্যপ্রযুক্তি বিস্তারে নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হবে। স্টার টেকের কিস্তি সুবিধা এই সেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ব্যবহারকারীরা ইতোমধ্যেই কিস্তিতে স্টারলিংক কিট কেনার সুবিধার প্রশংসা করেছেন। অনেকেই বলছেন, এটি গ্রামীণ ও শহরতলির মানুষকে উচ্চগতির ইন্টারনেটের সুবিধা নিতে উৎসাহিত করবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে।
স্টার টেকের এই উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি নাগরিকদের তথ্যপ্রযুক্তির জগতে সমান সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। নতুন সুবিধার মাধ্যমে দেশের ইন্টারনেট খাতের বিস্তার ও ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়বে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সাধারণ মানুষের কাছে এই ঘোষণা একটি আশার আলো হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে তারা আর্থিকভাবে কম চাপের মধ্যে স্টারলিংক সেবা ব্যবহার করতে পারবে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে এই উদ্যোগ দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারের মান ও নাগালের পরিধি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।