চট্টগ্রামে ৪০ মামলার পলাতক সন্ত্রাসী মেজর ইকবাল গ্রেপ্তার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৯ বার
সন্ত্রাসী ইকবাল হোসেন চৌধুরী ওরফে মেজর ইকবাল

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রাম — রাউজান উপজেলার এক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও পলাতক আসামি মেজর ইকবাল হোসেন চৌধুরী ওরফে মেজর ইকবালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় পুলিশের মতে, তার বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ৪০টির বেশি মামলার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় শান্তি ফিরতে শুরু করেছে।

রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সোমবার বিকেল ৩টায় রাউজান পৌরসভা এলাকা থেকে মেজর ইকবালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও বলেন, “মেজর ইকবাল রাউজান পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সুলতানপুর এলাকার আব্দুল কুদ্দুস প্রকাশ কালু মেম্বারের ছেলে। সে স্থানীয়ভাবে একজন ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।”

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেজর ইকবালের বিরুদ্ধে রয়েছে ছয়টি হত্যা মামলা, দাঙ্গা-মারামারি, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, রাউজান, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে অন্তত ৪০টির বেশি মামলা দায়ের রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, মেজর ইকবাল বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। বিশেষ করে শ্যামল হত্যা, আমান হত্যা, ভিপি বাবু হত্যা ও মুজিব হত্যা মামলার ঘটনায় তার নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, তিনি একটি সক্রিয় ডাকাত দলের নেতৃত্ব দিতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের তিনটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া আরও বলেন, “মেজর ইকবাল একটি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে বহু মামলা থাকলেও সে দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

গ্রেপ্তারের পরে মেজর ইকবালকে বর্তমানে রাউজান থানায় রাখা হয়েছে। পুলিশ তাকে আদালতে প্রেরণ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য নতুন সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয়রা এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং জনজীবন ব্যাহত করার মতো অপরাধ কমবে। নিরাপত্তা বাহিনীও জানিয়েছে, মেজর ইকবালের গ্রেপ্তারের পর রাউজান, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আরও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ জানিয়েছে, মেজর ইকবালের মতো সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আদালতের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সমস্ত মামলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে এবং শাস্তি নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে পুলিশের আশাবাদ।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার ও দমন করার লক্ষ্য নিয়েই চট্টগ্রামে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। মেজর ইকবালের গ্রেপ্তার সেই প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত