সশস্ত্র বাহিনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতার মেয়াদ আরও বাড়ল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬৮ বার
সশস্ত্র বাহিনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতার মেয়াদ আরও বাড়ল

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রেখে চলা সশস্ত্র বাহিনীকে দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার মেয়াদ আরও সাড়ে তিন মাস বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, আগামীকাল বুধবার (১২ নভেম্বর) থেকে নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং তা ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর প্রেষণে কর্মরত কর্মকর্তারাও এই ক্ষমতা প্রয়োগের আওতায় থাকবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা এবং সন্ত্রাস দমনসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের এই ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকাকালীন সময় তারা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন, যা সাধারণত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য সংরক্ষিত।

গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সশস্ত্র বাহিনীকে প্রথমবারের মতো সারাদেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। তখন তাদের ৬০ দিনের জন্য এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পরে একাধিকবার মেয়াদ বাড়িয়ে তা চলমান রাখা হয়। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট, সন্ত্রাস দমন কার্যক্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তার জটিলতা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যেভাবে সহযোগিতা করছেন, তা সরকারের কাছে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধ, নাশকতা দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় তৈরিতে তাদের অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে সবসময় পেশাদারিত্ব ও সতর্কতা বজায় রাখেন। বর্তমান সময়ে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নানা ধরণের নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের এই ক্ষমতা প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সশস্ত্র বাহিনীর হাতে এই ধরনের প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকা একদিকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক, অন্যদিকে এটি প্রশাসনিক কার্যক্রমে দ্রুততা আনে। তবে একইসঙ্গে তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এই ক্ষমতা প্রয়োগে যথাযথ সংবিধানিক ও মানবাধিকার সংরক্ষণের বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, “নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসির ক্ষমতা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে এটি যেন কোনোভাবে নাগরিক অধিকার বা প্রশাসনিক ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।”

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে থাকা সেনা কর্মকর্তারাও একইভাবে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। এর ফলে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা ও সমুদ্র উপকূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

সরকারি সূত্র বলছে, এই মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মূলত মাঠপর্যায়ের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর পরামর্শেই নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে জানানো হয়, মাঠপর্যায়ে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি সাধারণ মানুষকে আস্থাশীল করে তোলে এবং তাৎক্ষণিক আইন প্রয়োগে কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসির ক্ষমতা থাকা অবস্থায় সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, অপরাধ প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ, কিংবা প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করার ক্ষমতা রাখেন। অতীতে দেখা গেছে, এই ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এদিকে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তারা মনে করেন, প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে সামরিক কর্মকর্তাদের হাতে বিচারিক ক্ষমতা থাকা একটি ব্যতিক্রমধর্মী ব্যবস্থা, যা সর্বদা নিরপেক্ষতা বজায় রেখে প্রয়োগ করা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে সশস্ত্র বাহিনী বরাবরই দুর্যোগকালীন সহায়তা, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা, সীমান্ত রক্ষা এবং অবৈধ কার্যক্রম দমনসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই ধারাবাহিকতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসির ক্ষমতা তাদের আরও দায়িত্বশীল করে তুলছে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “সশস্ত্র বাহিনীর হাতে এই ক্ষমতা থাকা মানে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং তা প্রশাসন ও নাগরিক সুরক্ষায় একটি বাড়তি নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করে। জনগণও এখন সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রমে আস্থা রাখে।”

মেয়াদ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, সরকার আসন্ন মাসগুলোতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও কঠোর ও সমন্বিত অবস্থান নিতে চায়।

বিশেষ করে আগামী বছরের শুরুতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, নির্বাচন ও সামাজিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে মনে করছেন প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হলো—রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং প্রশাসনিক ভারসাম্য ও জননিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত