হাইকোর্টে ২১ বিচারপতি স্থায়ী পদে শপথ গ্রহণ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৭ বার
হাইকোর্টে ২১ বিচারপতি স্থায়ী পদে শপথ গ্রহণ

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন। 

ঢাকা থেকে — জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নিয়োগ পাওয়া ২১ জন হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি স্থায়ী পদে শপথ নিয়েছেন। বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এ সময় আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের অন্যান্য বিচারপতিদের উপস্থিতি ছিল।

সরকারের পক্ষ থেকে গতকাল মঙ্গলবার ২২ জন হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী পদে উন্নীত করার ঘোষণা আসে। তবে এই সংখ্যার মধ্যে বিএনপি নেতা নিতাই রায় চৌধুরীর ছেলে বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে স্থায়ী করা হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, তার বয়স এখনও ৪৫ পূর্ণ হয়নি, তাই তিনি শর্তসাপেক্ষে স্থায়ী পদে নিয়োগ পাবেন।

এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবরের নিয়োগকৃত ২৩ জন অতিরিক্ত বিচারপতির মধ্যে বেশিরভাগই স্থায়ী পদে উন্নীত হয়েছেন। মূলত বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে এবং হাইকোর্টে কাজের চাপ কমাতে সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বিচারব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং আদালতের সুষ্ঠু কাজকর্মের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিচারিক দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব শুধুমাত্র আইনের প্রয়োগ নয়, একই সঙ্গে ন্যায় ও সংবিধানরক্ষা নিশ্চিত করাও প্রধান দায়িত্ব। জনগণের আস্থা ও আদালতের মর্যাদা অটুট রাখতে প্রতিটি বিচারপতির সততা ও নিষ্ঠা অপরিহার্য।”

শপথগ্রহণের এই অনুষ্ঠানে বিচারপতিরা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের শপথ গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে তারা আইন ও সংবিধানের প্রতি অনন্য আস্থা রেখে জনগণের জন্য সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করেন। আদালতের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, নতুন স্থায়ী বিচারপতিদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে হাইকোর্টের কাজের গতি এবং মামলার নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।

তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার হাইকোর্টের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। অতিরিক্ত বিচারপতিদের স্থায়ী পদে উন্নীত করা সেই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পদক্ষেপ বিচারব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা এবং দ্রুততম রায়ের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করবে।

বিচারিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন স্থায়ী বিচারপতিরা হাইকোর্টের বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিকোণ এবং দক্ষতা নিয়ে আসবেন। এটি বিশেষত মামলার নিষ্পত্তি সময় কমানো এবং আদালতের ন্যায্যতার মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বয়সজনিত কারণে স্থায়ী পদে নিয়োগ না হওয়ার বিষয়টি কিছুটা রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও যথাযথ বয়সসীমা মানার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারবে না।

এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান কেবল বিচারপতিদের জন্য নয়, সমগ্র বিচারব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ দেশব্যাপী বিচারব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করবে বলে অভিজ্ঞরা মনে করছেন।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিচারপতিরা বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও সতর্কতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার অঙ্গীকার করেন। বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জনমত রক্ষার জন্য তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সুপ্রিম কোর্টের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নতুন স্থায়ী বিচারপতিরা হাইকোর্টের অভ্যন্তরীণ কাজের ধরন, মামলার গতি এবং ন্যায্য রায়ের মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।

এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান দেশের বিচারব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। আদালতের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

সর্বোপরি, হাইকোর্টে ২১ জন বিচারপতির স্থায়ী পদে শপথ গ্রহণ বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি শুধু আদালতের ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে না, বরং দেশের জনগণের আস্থা ও বিচার ব্যবস্থার মর্যাদা অটুট রাখতে সহায়ক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত