প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা থেকে — মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমানের বিধ্বস্ত ঘটনায় আহত দশ বছর বয়সী যমজ দুই শিশু সারিনাহ জাহান সায়রা ও সাইবাহ জাহান সায়মা প্রায় সাড়ে তিন মাসের চিকিৎসা শেষে বুধবার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে বাড়ি ফিরেছেন। বুধবার সকালে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে দুই শিশুকে বিদায় জানান চিকিৎসক, নার্স এবং হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারীরা।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই যমজ বোন দুজনই মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়েছিলেন। সায়রা ৩০ শতাংশ এবং সায়মা ১৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় তিন মাসের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর তারা এখন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, “মাইলস্টোন স্কুলের বিমান দুর্ঘটনায় আহত মোট ৫৭ জন এই ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একজন রোগীকে মানসিক অবস্থার জন্য ট্রমা ম্যানেজমেন্টে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনজন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তবে তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত।”
পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন আরও বলেন, “আমাদের চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্টাফরা দগ্ধ প্রত্যেক রোগীর জন্য আন্তরিকভাবে সেবা প্রদান করেছেন। তারা অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।”
এই যমজ বোনের বাড়ি ফেরা শুধু তাদের পরিবার নয়, বরং হাসপাতাল কর্মী, চিকিৎসক ও নার্সদের জন্যও একটি আনন্দঘন মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। হাসপাতালের পরিবেশে দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রণার শিকার শিশুদের সাফল্যমণ্ডিত সুস্থতা ফিরে পাওয়ায় তারা এক ধরনের প্রশান্তি ও সন্তুষ্টি অনুভব করছেন।
মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় দগ্ধ অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। যমজ দুই বোনের সুস্থতা প্রমাণ করে যে, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে পরিচালিত হলে দগ্ধ রোগীর পুনর্জীবন সম্ভব।
স্থানীয় সমাজ ও শিক্ষাবিদরা এই দুই শিশুর সুস্থতাকে উদাহরণ হিসেবে দেখাচ্ছেন যে, দুর্ঘটনার পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া যথাযথ হলে শিশুদের স্বাভাবিক জীবনধারা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছে, দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক উভয় দিকের যত্ন নেওয়া হয়েছে।
মাইলস্টোন দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা এবং হাসপাতালের পক্ষ থেকে আন্তরিক সেবা এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি দগ্ধ চিকিৎসার ক্ষেত্রে ধৈর্য, দক্ষতা ও মানবিক সহমর্মিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা এখানে সাফল্যের সঙ্গে প্রয়োগ করা হয়েছে।
এই যমজ বোনদের সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা শুধু একটি ব্যক্তিগত আনন্দ নয়, বরং দুর্ঘটনার পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার এক প্রমাণ। এটি দগ্ধ রোগী ও তাদের পরিবারকে মানসিক শক্তি দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতিতে পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।
মোটকথা, মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনায় আহত যমজ দুই শিশুর সাড়ে তিন মাসের চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং মানবিক সাফল্যের ঘটনা। এটি চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সরকারের সহযোগিতার মিলে একটি ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে।