নতুন জাগরণে তরুণ নেতৃত্ব, কানাডার পার্লামেন্টারি দলের সঙ্গে ইউনূস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪০ বার
নতুন জাগরণে তরুণ নেতৃত্ব, কানাডার পার্লামেন্টারি দলের সঙ্গে ইউনূস

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা থেকে — বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মন্তব্য করেছেন, দেশের আগামী নির্বাচন জাতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হবে। বুধবার (১২ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাত সদস্যের কানাডিয়ান পার্লামেন্টারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতকালে তিনি এ কথাগুলো বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সিনেটর সালমা আতাউল্লাহজান।

অধ্যাপক ইউনূস প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের প্রস্তুতি বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি বলেন, “আপনারা এমন এক সময়ে বাংলাদেশে এসেছেন, যখন দেশটি এক বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তরুণদের নেতৃত্বে নতুন জাগরণ ঘটছে। আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যা জাতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে লেখা হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা এসময় কানাডার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা সংকটের আট বছর পার হয়েছে। তাদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনই একমাত্র কার্যকর সমাধান। প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাংলাদেশে বসবাস করছে। হাজার হাজার শিশু জন্ম নিয়েছে এবং বড় হচ্ছে, কিন্তু তারা জানে না তাদের নাগরিকত্ব বা ভবিষ্যৎ কী হবে। তারা ক্ষুব্ধ এবং তহবিল সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।”

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে চলেছে। তবে সংস্থান ও তহবিলের সীমাবদ্ধতার কারণে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা এখনও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সাক্ষাতকালে কানাডার প্রতিনিধি দল অধ্যাপক ইউনূসকে প্রশ্ন করেন, দেশটিতে তরুণ নেতৃত্বের এই নতুন জাগরণের প্রভাব কীভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে পরিবর্তন করছে। এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তরুণ নেতৃত্বের উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি এবং উৎসাহ জাতীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা নতুন ভাবনা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি নিয়ে আসছে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করছে।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, নির্বাচনের সময় নাগরিকদের নিরাপত্তা, ভোটের স্বচ্ছতা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা সরকারের মূল দায়িত্ব। তরুণ নেতৃত্বের উদ্ভাবনী ধারণা এবং দেশের সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এই প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করছে। এই ধারা বজায় থাকলে বাংলাদেশ আগামী নির্বাচনে সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারবে।

এছাড়া তিনি কানাডার প্রতিনিধি দলকে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের লক্ষ্য দেশের ভৌগোলিক ও সামাজিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী সমাধান ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “আমরা চাই রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরতে পারে এবং তাদের নাগরিকত্ব ও অধিকার নিশ্চিত হয়। দীর্ঘমেয়াদী সমাধান ছাড়া কোনো প্রকৃত স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।”

ড. ইউনূস কানাডার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কানাডা এই বিষয়ে একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। আমাদের লক্ষ্য, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সাক্ষাৎকালীন আলোচনা শুধু কূটনৈতিক পর্যায়ের নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও মানবিক সংকটের সমাধান উভয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তরুণ নেতৃত্বের উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা একসাথে মিললে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।

মোটকথা, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কানাডিয়ান পার্লামেন্টারি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎকালীন আলোচনা দেশের নির্বাচনী প্রস্তুতি, তরুণ নেতৃত্বের নতুন জাগরণ এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এই সংলাপ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও মানবিক অগ্রগতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত