নেপাল ও ভারতের বিপক্ষে লড়তে ঢাকায় ফিরলেন শমিত সোম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬৩ বার
নেপাল ও ভারতের বিপক্ষে লড়তে ঢাকায় ফিরলেন শমিত সোম

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা থেকে — দেশের ফুটবল সমর্থকদের মুখে আবারও ভরসার নাম শমিত সোম। কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স শেষে জাতীয় দলের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ফিরে এসেছেন ঢাকায়। নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ এবং ভারতের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) মধ্যরাতে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

২৫ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার সম্প্রতি কানাডার ক্লাব কাভালরি এফসির হয়ে লিগ ফাইনালে খেলেছেন। শেষ মুহূর্তের এক গোল হজম করে তার দল রানার্সআপ হলেও শমিতের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। ক্লাবের হয়ে পুরো মৌসুমে তার নিয়ন্ত্রিত পাস, বল পজেশন ও মাঠজুড়ে উপস্থিতি ফুটবল বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।

ফাইনাল শেষ করে কোনো বিরতি না নিয়েই তিনি বিমানে চড়েন ঢাকার উদ্দেশ্যে। জাতীয় দলের হয়ে দায়িত্ব পালনকেই তিনি নিজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন। ঢাকায় পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে শমিত বলেন, “দেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামা আমার জন্য গর্বের বিষয়। আমি চেষ্টা করব নেপাল ও ভারতের বিপক্ষে দলের জন্য সেরাটা দিতে।”

শমিতের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল ২০২৪ সালের ১০ জুন, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে তার আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স নজর কেড়েছিল কোচ ও দর্শকদের। এরপরই হংকংয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করে আলোচনায় আসেন তিনি। মাত্র দুই ম্যাচের মধ্যেই দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন এই প্রবাসী ফুটবলার।

জাতীয় দলের কোচ হাভিয়ের ক্যাব্রেরা শমিতের প্রত্যাবর্তনকে দলের জন্য “সময়ের সেরা সংযোজন” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “শমিতের উপস্থিতি দলের মিডফিল্ডে ভারসাম্য এনে দেবে। সে শারীরিকভাবে ফিট, ম্যাচপ্র্যাকটিসে আছে এবং কৌশলগতভাবে পরিপক্ব। নেপালের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাসী করবে।”

আগামী বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে নামবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচের মাধ্যমে কোচ ক্যাব্রেরা মূলত ভারত ম্যাচের প্রস্তুতি যাচাই করবেন। পাঁচ দিন পর, অর্থাৎ ১৮ নভেম্বর, কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) জানিয়েছে, দুই ম্যাচেই শমিতকে প্রথম একাদশে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কোচিং স্টাফদের ধারণা, তার পাসিং, বল কন্ট্রোল ও ফিল্ড ভিশন দলকে আক্রমণভাগে নতুন রূপ দেবে।

প্রবাসী ফুটবলার হিসেবে শমিতের সাফল্য বাংলাদেশের ফুটবলে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি কেবল কানাডার মাঠেই নন, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করার স্বপ্নে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার ফুটবল জীবনের শুরু ছিল অনন্য — জন্ম কানাডায় হলেও শিকড় বাংলাদেশে। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের তত্ত্বাবধানে ফুটবলে মনোযোগ দেন তিনি। কানাডায় বিভিন্ন যুব দলে খেলার পর কাভালরি এফসিতে যোগ দেন, যেখানে দ্রুতই প্রথম দলে জায়গা করে নেন।

ঢাকায় পৌঁছে শমিত বলেন, “আমি জানি, বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকরা এখন নতুন কিছু দেখতে চায়। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করছি যেন মাঠে গর্বের কিছু উপহার দিতে পারি। নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটা আমাদের জন্য বড় পরীক্ষা, আর ভারতের বিপক্ষে সেটা রূপ নেবে আত্মসম্মানের লড়াইয়ে।”

বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজার জানিয়েছেন, শমিতের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় পৌঁছেই তিনি হালকা ট্রেনিংয়ে অংশ নিয়েছেন। বুধবার সকাল থেকে পুরো দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেন।

দলের অন্য সদস্যরা তার ফিরে আসাকে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বলেন, “শমিতের মতো তরুণ ও উদ্যমী খেলোয়াড়রা দলে এলে আমরা অনুপ্রাণিত হই। সে মাঠে যেমন পরিশ্রমী, তেমনি দলের মনোবলও বাড়িয়ে তোলে।”

বাংলাদেশ ফুটবল এখন যে পুনর্গঠনের পথে রয়েছে, তাতে প্রবাসী খেলোয়াড়দের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। শমিত সোম সেই ধারার অন্যতম উদাহরণ। তিনি যেমন আন্তর্জাতিক মানের ক্লাবে খেলছেন, তেমনি দেশের হয়ে মাঠে নামার জন্য নিজের বিশ্রাম ত্যাগ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

এখন অপেক্ষা বৃহস্পতিবারের নেপাল ম্যাচের, যেখানে শমিতের মধ্যমাঠ নিয়ন্ত্রণ ও পাসিং ফুটবল আবারও বাংলাদেশের সমর্থকদের নতুন আশার আলো দেখাতে পারে। আর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি হতে পারে তার জন্য নতুন এক মঞ্চ—যেখানে প্রবাসের আলো মিশে যাবে দেশের মাটির আবেগে।

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা তাই এখন এক সুরে বলছেন—শমিত ফিরেছে, আশাও ফিরেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত