ফরিদপুরে প্রবাসীর বাড়িতে বিস্ফোরক তৈরির চক্র ভেঙে, ৩ যুবক আটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৬ বার
ফরিদপুরে প্রবাসীর বাড়িতে বিস্ফোরক তৈরির কাজ বন্ধ, ৩ আটক

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি প্রবাসীর বাড়িতে বিস্ফোরক তৈরির চক্র ধরা পড়েছে। পুলিশ বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে আজিমনগর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী টিটু সরদারের পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ককটেল ও পেট্রোল বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় তিনজন যুবককে আটক করা হয়েছে।

ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফ হোসেন দৈনিক ‘আমার দেশ’কে জানান, গোপন সূত্রে খবর আসে যে, পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে বিস্ফোরক তৈরির কাজ চলছে। পুলিশ অবিলম্বে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ভাঙ্গা থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ ইকবাল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আসন্ন ১৩ নভেম্বর ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মসূচির দিন নাশকতা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরক তৈরির কাজ করা হচ্ছিল।

আটককৃতদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন টাঙ্গাইল জেলার আলতাফ হোসেনের ছেলে রাজ ইসলাম (২৫), চাঁদপুর জেলার নূর মোহাম্মদের ছেলে রাকিব হোসেন (২৪) এবং সুনামগঞ্জ জেলার জালাল উদ্দিনের ছেলে জিয়াউর রহমান (২৮)। পুলিশ জানিয়েছে, সৌদি প্রবাসী টিটু সরদারের চারচালা টিনের ঘরে এই তিন যুবক দীর্ঘদিন ধরে বিস্ফোরক তৈরির কাজ করছিলেন। ঘরটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় স্থানীয়দের নজরে আসেনি। ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার বা বুধবার থেকে তারা ওই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় বোমা তৈরির সরঞ্জামের পাশাপাশি ২৩টি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ককটেল বোমা, বিস্ফোরক মিশ্রণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, প্লাস্টিকের বোতল, তার ও অন্যান্য উপকরণও পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, এসব বোমা এবং উপকরণ ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত ছিল এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী তা আক্রমণের জন্য ব্যবহার করা হতে পারত।

স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাঙ্গা উপজেলার সাধারণ মানুষ জানান, এই ধরনের ঘটনা তাদের নিরাপত্তা ও শান্তি বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন এমন ধরনের ঘটনা দ্রুত নিরসন করতে পারে।

ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফ হোসেন জানান, “আমরা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযানে গিয়েছিলাম। ধৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের সহযোগী বা অন্য কোনো সন্দেহভাজন এখনও আছে কি না তা আমরা খুঁজছি। উদ্ধার হওয়া বোমা ও সরঞ্জাম বিশ্লেষণ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে।”

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরক তৈরির এই চক্র কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিয়োজিত ছিল। তবে নির্ভরযোগ্য তদন্তের পরই স্পষ্টভাবে বলা যাবে, পরিকল্পনা কতটা বড় এবং কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এটি ব্যবহৃত হবার সম্ভাবনা ছিল।

এছাড়া পুলিশ জানিয়েছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা এবং রাজনৈতিক নাশকতা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এটি ভাঙ্গা ও আশপাশের এলাকার সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দিয়েছে। ভাঙ্গা থানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে না পারে।

উল্লেখ্য, ভাঙ্গার সাবেক সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর নিজস্ব ইউনিয়ন আজিমনগর এলাকায় এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। পূর্বেও নাশকতা ও বোমা তৈরির প্রচেষ্টা ধরা পড়েছে। তবে এবার পুলিশের সক্রিয় অভিযান এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, প্রবাসীদের বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকায় অনেকেই সেখানে কোনো কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা ভাবতেন না। কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, পরিত্যক্ত স্থানের নিরাপত্তা বিষয়ক সতর্কতা বজায় রাখা কতটা জরুরি। পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণের মধ্যে সহযোগিতা থাকলে এমন ঘটনা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

পুলিশের কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন, ধৃতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া এই ধরনের চক্র ও কর্মকাণ্ডে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অভিযানের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ধৃতরা নিজেদের মধ্যে ককটেল বোমা তৈরি ও সংরক্ষণে প্রশিক্ষিত ছিল এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী তা ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ভবিষ্যতে তাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে। পুলিশও জানিয়েছে, নিয়মিত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এমন নাশক কার্যক্রম প্রতিরোধ করা হবে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার এই অভিযান প্রমাণ করে যে, সচেতন ও সক্রিয় পুলিশি ব্যবস্থা থাকলে নাশকতা ও অপরাধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করেছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত