প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকার কমিশনার গলির একটি মেস থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় যুবক মামুন শিকদারের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক সেবন বা মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, নিহত মামুন শিকদার বয়সে ৩৯ বছর এবং পেশায় ছিলেন গাড়িচালক। তিনি পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আলগী গ্রামের আবদুল খালেক শিকদারের ছেলে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে অন্য এক ব্যক্তির বাসায় গুলিবিদ্ধ হন মামুন। বুধবার ভোরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠায়।
পুলিশ জানায়, গুলিবিদ্ধ হওয়া স্থানের বাসা থেকে কিছু ইয়াবা পাওয়া গেছে। বাসায় দুই জন থাকতেন, যারা হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পালিয়ে গেছেন। তাদের শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, মাদক সেবন বা বিক্রির বিষয়ে বিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। নিহতের পরিবার শিগগিরই হত্যা মামলা দায়ের করবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।”
স্থানীয়দের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের খবরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সাধারণত শান্তিশৃঙ্খলাময় এলাকা হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় এমন ঘটনার কারণে মানুষ দুশ্চিন্তায় ভুগছে। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মাদকাসক্তদের কারণে এলাকায় অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মামুন শিকদারের আত্মীয়স্বজন জানিয়েছেন, তিনি শান্তপ্রিয় ও পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। তাদের বক্তব্য, কোনও শত্রুতা না থাকলেও মাদককে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে, যা তাদের পরিবারের জন্য এক বিপর্যয়।
পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং আসামিদের শনাক্তকরণ সম্ভব হবে। পাশাপাশি, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য এলাকায় বিশেষ টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় কমিউনিটি নেতারা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে, কেউই অপরাধমুক্ত থাকবে না এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মামুন শিকদারের মৃত্যু স্থানীয় সমাজে দুঃখ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এলাকার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি পুলিশকে স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে বলা হচ্ছে। পাশাপাশি, মাদকসেবন ও বিক্রির অভিযোগ দ্রুত অনুসন্ধান করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে তৎপর হতে হবে বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা।
মামলার প্রাথমিক তদন্তে যেভাবে ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণাদি সংগ্রহ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করছে যে হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া, আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেওয়ার মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মর্মান্তিক এই ঘটনার মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হলো, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকসংক্রান্ত বিরোধ ও অপরাধজনিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে লড়াইয়ে পুলিশের তৎপরতা অপরিহার্য। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনাকে প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মামুন শিকদারের মৃত্যুর খবর সারা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। প্রতিবেশীরা পুলিশের দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ আশা করছেন। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য পক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।