প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে বুধবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাতের সময় পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ককটেল দুটি নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। ঘটনা ঘটার সময় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী চলছিল, যেখানে ফ্যাসিবাদী গুম, খুন ও লুটপাটের মতো বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীরা তথ্যচিত্র দেখছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে হঠাৎ দুটি ককটেল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর থেকে টিএসসির দিকে নিক্ষেপ করা হয়। প্রথম বিস্ফোরণের পরপরই আরও একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে, যার ধ্বনিতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের শিক্ষার্থী ও উপস্থিত সাধারণ জনগণ দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যান। কিন্তু ককটেল নিক্ষেপকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পরপরই ঢাবি শিক্ষার্থীরা টিএসসির আশপাশে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা এবং ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখার দাবি জানান। যদিও প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে কোনো ধরনের গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অসন্তোষ স্পষ্ট।
এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পুলিশ দ্রুত টিএসসিতে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেন। তবে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শেষ না হওয়ায় পুলিশ কোনো বিবৃতি দিতে পারেনি। একইভাবে ঢাবির প্রক্টরিয়াল বডির কর্মকর্তারাও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় বসবাসরত লোকজনও বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হন। এলাকায় বেশ কিছু সময় আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে, শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন এবং সাধারণ মানুষেরা তাদের আশেপাশের পথ বন্ধ রাখে।
উল্লেখযোগ্য যে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক দিনে ককটেল বিস্ফোরণ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ধোলাইপাড়ে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থা এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর হলেও, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ককটেল বিস্ফোরণ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা রাজধানীবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের অপরাধ শুধু নিরাপত্তা হুমকি নয়, বরং সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যা দেশের শিক্ষার প্রগতিশীল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, সেখানে এই ধরনের সহিংসতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়, উদ্বেগ এবং অসহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ছাত্ররা জানিয়েছেন, তারা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দাবি রাখেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ধরনের সহিংসতা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।
বিস্ফোরণ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা দেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি বিস্ফোরণ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা রেকর্ড করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের শনাক্তকরণের জন্য তদন্ত চালানো হচ্ছে।
ঢাবির টিএসসি অঞ্চলে চলা প্রদর্শনী এবং শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছাত্ররা ঘটনার পর নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করে। তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা নিজস্ব উদ্যোগে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকবেন। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে বলছেন, ক্যাম্পাসে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্যাট্রোল এবং নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা এবং শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসন দ্রুত ঘটনার মূল উদ্দেশ্য ও পেছনের পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করবে। এর ফলে, ভবিষ্যতে এই ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এছাড়া, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণকেও সচেতন এবং নিরাপদ থাকার জন্য সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।
ঢাবি ক্যাম্পাসে এই পরপর ককটেল বিস্ফোরণ দেশের শিক্ষার কেন্দ্রস্থলে সহিংসতা এবং অস্থিরতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি শুধু শিক্ষার্থীদের শিক্ষা পরিবেশকে প্রভাবিত করছে না, বরং সামাজিক সচেতনতা এবং সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলছে।
এভাবেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ধরনের সহিংসতা চলমান থেকে জনগণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক এবং উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেশের প্রশাসন, পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।