যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরাইলকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান ইরানের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩১ বার
যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরাইলকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান ইরানের

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরান সরকার — বিশেষ করে আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে — এক নজিরবাহী পদক্ষেপ নিয়েছে: তারা জাতিসংঘের মহাসচিব এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আনুষ্ঠানিক চিঠিতে আহ্বান জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তাদের সামরিক হস্তক্ষেপ এবং যুদ্ধাপরাধের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হোক।

চিঠিতে আরাগচি উল্লেখ করেছেন যে, গত জুনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্টভাবে ভূমিকা নিয়েছে এবং এখন সেই ভূমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে নিজ দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বাধ্য করা জরুরি। তিনি বলছেন যে, শুধুই ইসরায়েল দায়ী নয় — যুক্তরাষ্ট্রকেও দোষী করে তোলা সময় এসেছে।

চিঠিতে যে অংশটি সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে, তা হল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প‑এর গত ৬ নভেম্বর দেওয়া মন্তব্যের উদ্ধৃতি: “ইসরায়েল প্রথমে (ইরানকে) আক্রমণ করেছিল। সেই আক্রমণ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। আমি এর জন্য দায়িত্বে ছিলাম।” আরাগচি দাবি করেন, এই মন্তব্য স্পষ্ট প্রমাণ যে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের হামলার পরিকল্পনায় নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ দিয়েছিল।

চিঠি অনুযায়ী, ওই হামলায় ১১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। আর এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে সংযুক্ত জাতিসংঘ সনদের অনুচ্ছেদ ২(৪) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

চিঠিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ প্রতিকার দিতে বাধ্য বলে উল্লেখ করেছে। আরাগচি লিখেছেন যে, “ইসলামী প্রজাতন্ত্র সমস্ত সম্ভাব্য আইনগত রাস্তায় এগিয়ে যাবে যাতে দায়ী রাষ্ট্র ও ব্যক্তিদের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।”

এই চিঠি পাঠানোর তাৎপর্য অনেক‑স্তরীয়। এটি দেখায় যে ইরান শুধু ইসরায়েলকে সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু মনে করছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও দায়িত্বকে বড় আকারে নিয়ে আসছে। এটি একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করেছে—বলে দিয়েছে যে তারা যুদ্ধ ও হানাহানির পর একমাত্র শান্তি চায় না, বরং দোষীদের জবাবদিহি দরকার মনে করছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি সংকটপূর্ণ সময়চিহ্ন—যেখানে একদিকে পারস্পরিক হামলা ও পাল্টা হামলার ইতিহাস রয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যকরতা নিয়ে সন্দেহ চলছে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল ১৩‑২৪ জুনের মধ্যে একাধিক সামরিক অপারেশন চালায়, যাতে শুধু সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোই নয়, বহু সাধারণ নাগরিক ও বিদ্যুৎ‑সংযোগসহ সামাজিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এসব সাইটে যুক্তরাষ্ট্রও সহায়ক ভূমিকা রেখেছে—ইরান তার দাবি ব্যক্ত করেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, “উভয় রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের কর্মের জন্য আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দায়িত্ব নিতে বাধ্য।”

এসব বিবাদ পরিপ্রেক্ষিতে রয়েছে — ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্কসহ সংঘর্ষ। যেভাবে ইরান জুলাইর পর থেকে বলছিল যে, তারা তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুনর্গঠন করবে এবং আন্তর্জাতিক মনিটরিং বন্ধ করে দেবে, তাতে এ ধরণের পদক্ষেপ — যেমন এই চিঠি — বিশেষ রূপে নজর কাড়ছে।

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পাঠক‑দর্শকগণের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। প্রথমত, এটি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো হামলা হয়ত স্থানিকভাবে সীমাবদ্ধ থাকলেও তার আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও দায়বদ্ধতা বহুদূর বিস্তৃত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, এটি দেখাচ্ছে যে যুদ্ধ বা সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে কখনও কখনও একাধিক রাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে দায়গ্রহণ করছে বলে অভিযোগ ওঠে — নয় শুধু হামলাকারী রাষ্ট্র, বরং তার সহযোগী রাষ্ট্রও দায়ী হতে পারে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা পুনরায় আলোচনায় এসেছে — যে সংস্থা নিয়ম প্রণয়ন ও প্রয়োগের দায়িত্বে আছে, তাদের কার্যকারিতা তুলে ধরা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে, যেখানে আমরা নানান আন্তর্জাতিক সংকট ও হস্তক্ষেপ দেখে আসছি — এই ঘটনার আলোকে সম্ভব হলে একটু ভাবা উচিত হবে — কোন অবস্থায় একটি রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা স্বীকার করতে পারে, কোথায় অধিকার ও দায়বদ্ধতার সীমা রয়েছে, এবং মিডিয়া‑দায়বদ্ধতা কি রূপে রাখা যেতে পারে।

শেষ কথা হিসেবে, এই চিঠি শুধু ইরান‑যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরায়েল সম্পর্কের কূটনৈতিক এক ‘মুহূর্ত’ নয়, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও দায়‑প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জের এক নতুন অধ্যায়ও হতে পারে। এবং আমাদের মিডিয়া‑প্রেক্ষাপটে, এটি অনুসরণীয় একটি ঘটনা যা দেখাবে — কিভাবে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ এবং প্রতিকার‑চাওয়া এক‑অন্যের সঙ্গে জড়িত হয়, ও বিশ্ব সংসদের কাঠামোর মধ্যে কতটা কার্যকর হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত