প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানী ঢাকার কমলাপুর ও পল্লবী এলাকায়, পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গোপালগঞ্জে একরাতে ছয়টি যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সারা দেশে উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করেছে। বুধবার (১২ নভেম্বর) রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটেছে। তবে ভুক্তভোগী বা নিহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্তরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছেন।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার জানান, “রাত ১২টা ১০ মিনিটে পল্লবীর সাগুপ্তা সড়কে পার্কিং করা অবস্থায় ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তার আগে বাসটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
এরপর রাত পৌনে ৩টার দিকে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের সামনে থেমে থাকা একটি হিউম্যান হলার বা লেগুনায় আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট তা নিয়ন্ত্রণে আনে। একইভাবে রাত আড়াইটার দিকে টাঙ্গাইলের রাওয়াইলের একটি বাসে আগুন লাগানো হয়।幸গত ঘটনায় গাড়িটিতে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুতিকৃত পদক্ষেপে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া এলাকায় একটি পেপার মিলের সামনে থেমে থাকা ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। স্থানীয়রা খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে জানান এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। একইভাবে গোপালগঞ্জে গণপূর্ত কার্যালয়ের সামনে থেমে থাকা একটি পিকআপভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছার আগেই পিকআপটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়।
এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতভর আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করতে হয়েছে। তারা মনে করছেন, কেউ পরিকল্পিতভাবে যানবাহনগুলোতে আগুন দিয়েছেন। যদিও পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশের টহলও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
রাজধানী ও অন্যান্য জেলা শহরের এই ঘটনায় পরিবহন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষত, কমলাপুর ও পল্লবী এলাকা যাত্রীবাহী বাস চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ ধরনের আগুনের ঘটনায় যাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার জানান, “প্রত্যেকটি আগুনের ঘটনায় দ্রুত পৌঁছানো আমাদের লক্ষ্য ছিল। তবে বেশ কিছু যানবাহন আগুনের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কাজ করছি।”
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন, তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান বৃদ্ধি করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। তারা জানিয়েছেন, যদি পরিকল্পিতভাবে এই আগুন দেওয়ার ঘটনা প্রমাণিত হয়, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় এ ধরনের ঘটনা পূর্বাভাসহীনভাবে ঘটে গেলে যাত্রীরা আতঙ্কিত হন। কিছু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের সক্রিয় পদক্ষেপে যান চলাচল তৎক্ষণাৎ স্বাভাবিক হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আগুনের ঘটনা কেবল যানবাহনই নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। তাই ভবিষ্যতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তারা জানিয়েছেন, শহরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং টহলবাহিনী স্থাপন করলে এ ধরনের ঘটনা কমানো সম্ভব।
অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ ও দায়মুক্তির বিষয়েও প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের হদিস পেয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
মোটের ওপর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের আগুন দেওয়ার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, তবে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সক্রিয় পদক্ষেপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কাজ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহর ও রুটে যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে সুরক্ষা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তি আটক হয়নি। তবে প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ উদ্যোগে আগামী দিনগুলোতে নজরদারি আরও কড়াকড়ি করা হবে। ঢাকা ও অন্যান্য এলাকায় চলমান আগুনের ঘটনা দেশের সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা ও সচেতনতার ক্ষেত্রে সতর্ক করেছে।