প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশে ইসলামিক ফিন্যান্স খাতকে শক্তিশালী করতে এবং দেশকে দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ ইসলামিক ফিন্যান্স সামিট-২০২৫’। এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ১৬ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শেরাটন ঢাকার ক্রিস্টাল বলরুমে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান আইএফএ কনসালটেন্সি লিমিটেড আন্তর্জাতিক সংস্থা AAOIFI-এর সহযোগিতায় সামিটের আয়োজন করছে। সামিটের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশে ইসলামিক ফিন্যান্স শিল্পে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ২.০’।
এই সম্মেলনে নীতিনির্ধারক সংস্থা, শিল্প বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী ও শিল্প প্রশাসনের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা অংশ নেবেন। আলোচনার মূল বিষয় হবে ইসলামিক ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন জোরদার করা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিতকরণ এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে AAOIFI-এর বৈশ্বিক মানদণ্ড বাস্তবায়নের কৌশল। নীতিনির্ধারণী সংলাপ, প্রায়োগিক প্রশিক্ষণ এবং পেশাদার কর্মশালার মাধ্যমে এই লক্ষ্য পূরণের পথ নির্দেশ করা হবে।
সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং উপ-প্রধান অতিথি হিসেবে ডেপুটি গভর্নর ড. কবির আহমেদ অংশ নেবেন। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অংশ নেবেন পাকিস্তানের মুফতি ড. মুহাম্মদ ইমরান আশরাফ উসমানি, মালয়েশিয়ার আইএসআরএ কনসালটিং-এর সিইও ড. মোহাম্মদ এস্কান্দার শাহ মোহাম্মদ রশিদ, অ্যাওক্বাফ শরিয়াহ ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ম্যানেজার মুফতি শাকির জাখুরা, পাকিস্তানের প্রফেসর মুফতি ড. যুবায়ের উসমানি এবং IIUM, মালয়েশিয়ার প্রফেসর ড. হাবিবুল্লাহ যাকারিয়া। এ ছাড়াও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিশেষজ্ঞরাও এতে অংশগ্রহণ করবেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামিটটি বাংলাদেশে ইসলামিক ফিন্যান্স খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইসলামী ব্যাংকিং এবং ফিন্যান্স খাতের প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত কাঠামোকে শক্তিশালী করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসারে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।
সামিটে অংশগ্রহণকারীরা আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা চিহ্নিত করবেন। ইসলামী ব্যাংকিং খাতের প্রবৃদ্ধি, সুশাসন ও নীতি নির্ধারণ, বিনিয়োগের সুরক্ষা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি প্রসারের উপায়গুলোও নিয়ে বিস্তারিত কর্মশালায় আলোচনা করা হবে।
বাংলাদেশে ইসলামিক ফিন্যান্স খাত সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই খাতে বিনিয়োগ ও সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সামিট এই খাতকে আরও সুদৃঢ় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
আইএফএ কনসালটেন্সি লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামিটের আলোচনার ফলাফল নীতিনির্ধারক এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলামিক ফিন্যান্স খাতের নিয়ন্ত্রণ, নীতি এবং কার্যক্রম আরও উন্নত হবে।
“একটি বাংলাদেশ অনলাইন” পাঠকদের জন্য এই সামিট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সামিটের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানের ইসলামিক ফিন্যান্স খাত গড়ে তোলার পথে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।