প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে ৮৩৩ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১৯ জন, ঢাকা বিভাগে ১৫৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ১৬৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ১১৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ৬৫ জন, রংপুর বিভাগে ১২ জন এবং সিলেট বিভাগে ছয়জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছরের ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২,৬০৬ জনে। এর মধ্যে ৭৮,৮৪৮ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ রোগীর অনুপাত ৬২ দশমিক চার শতাংশ এবং নারী রোগীর অনুপাত ৩৭ দশমিক ছয় শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক থাকায় জনগণকে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল নির্মূল করার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে না এলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এ সময়ে হাসপাতালগুলোতে রোগী সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদফতর নিয়মিত মনিটরিং চালাচ্ছে। তারা জানাচ্ছে, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করা এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পানি জমে থাকা প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সরকার এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতা প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জনগণকে সতর্ক করেছে, ডেঙ্গুর লক্ষণ যেমন জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে দাগ-চিহ্ন এবং হঠাৎ শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে যদি মশার প্রজননস্থল নির্মূল না করা হয়। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এ অবস্থায় চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা একসঙ্গে গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।