গাজায় পরিবেশ বিপর্যয়, অধিকাংশ গাছপালা নিশ্চিহ্ন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৭ বার
গাজায় পরিবেশ বিপর্যয়, ৯০% গাছপালা নিশ্চিহ্ন

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইসরায়েলি হামলার পরে যুদ্ধবিধস্ত গাজা উপতক্য এখন এক ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটে ধুঁকছে। বসতবাড়ি ও প্রধান সড়কের আশপাশে গড়ে উঠেছে বর্জ্যের পাহাড়, যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশের অপরিহার্য উপাদান গাছের উপস্থিতি বলতে গেলে নেই। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উপতক্যার প্রায় ৯০ শতাংশ গাছপালা এই সংঘাতের ফলস্বরূপ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে লাখো মানুষের জীবনে, যারা সংক্রমণ, দূষণ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের মেয়র আলা আল-বাত্তা আল-জাজিরা আরবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, “আমরা এক ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি, যা রোগ ও মহামারীর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। মানুষ এখন শুধু খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্যই লড়াই করছে না, তারা নিরাপদ পরিবেশ, পরিষ্কার পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের জন্যও প্রতিদিনের যুদ্ধে নিপতিত হচ্ছে।”

মেয়রের বিবৃতি অনুযায়ী, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ক্রমবর্ধমান সমস্যা দেখা দিয়েছে। ল্যান্ডফিলে বর্জ্য অপসারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় দুর্গন্ধ, দূষণ এবং সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বর্জ্য জমে থাকার কারণে মশা, পোকামাকড় এবং বিভিন্ন জীবাণুর সংক্রমণ নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে।

গাজার অবরুদ্ধ অবস্থা, পানি, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবার সংকটের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের ধ্বংস নতুন এক চরম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো ইতিমধ্যেই রোগীর চাপ ও সীমিত চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুৎ ও পানির অনিয়মিত সরবরাহ স্বাস্থ্যঝুঁকিকে আরও বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পরিবেশগত এই ধ্বংস অব্যাহত থাকলে গাজার বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে নতুন প্রকারের সংক্রামক রোগ।

স্থানীয় নাগরিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছে। তারা বলছে, যুদ্ধবিধস্ত এলাকায় পরিবেশগত ক্ষতি শুধুমাত্র প্রাকৃতিক ধ্বংস নয়, এটি মানবিক সংকটেরও সূচনা করছে। এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ জীবন, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং মৌলিক জীবনধারার জন্য অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

গাজার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘন ঘন বোমাবর্ষণ এবং হামলার কারণে তারা নিজ বাড়ির আশেপাশের সব গাছ কাটতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া, আশ্রয় কেন্দ্র ও অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করতে গিয়ে বৃক্ষচর্চা প্রায় শূন্যে নেমে গেছে। মেয়রের মতে, এই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করা হলে উপতক্যায় পরিবেশগত পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়বে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, গাছপালার এত বড় ক্ষতি শুধু প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে না, বরং মাটি ক্ষয়, বন্যা ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং বাতাসের মান খারাপ করার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিপদ সৃষ্টি করছে। এতে শিশুদের শ্বাসনালি সমস্যা, জ্বর, চর্মরোগসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

মেয়র আলা আল-বাত্তা জানিয়েছেন, তারা স্থানীয় সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনর্বন প্রদান এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তবে অবরুদ্ধ অবস্থায় পর্যাপ্ত উপকরণ, অর্থায়ন ও কর্মী নিয়োগ ব্যতীত এই উদ্যোগের সফলতা সীমিত হবে বলে জানিয়েছেন।

পরিবেশবিদরা বলছেন, গাজার মতো সংকটাপন্ন এলাকায় গাছপালা শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং জনস্বাস্থ্য রক্ষা, পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় অবিলম্বে গাছপালা পুনঃরোপণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাজার এই পরিবেশ বিপর্যয় শুধু স্থানীয় নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উদ্বেগও বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থাকে অনুরোধ জানিয়েছে। তারা বলছে, গাজার এই পরিবেশগত বিপর্যয় অবিলম্বে মোকাবিলা না করলে হাজার হাজার মানুষের জীবন বিপন্ন হবে এবং মহামারীর ঝুঁকি আরও বাড়বে।

উপসংহার হিসেবে বলা যায়, গাজায় প্রায় ৯০ শতাংশ গাছপালার নিশ্চিহ্ন হওয়া শুধুমাত্র প্রাকৃতিক ধ্বংস নয়, এটি লাখো মানুষের জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ সংকেত। আন্তর্জাতিক সহায়তা, পুনর্বন এবং সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত