বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অক্ষরে অক্ষরে প্রস্তুত: সালাহউদ্দিন আহমদ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৫ বার
গণতন্ত্রকামী মানুষের হৃদয়ে খালেদা জিয়া অম্লান: সালাহউদ্দিন

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর শাহবাগে শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নারী ও শিশু ফোরামের মৌন মিছিল ও সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, আমরা সেটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে প্রস্তুত। স্বাক্ষরিত সনদের বাইরে কোনো চাপ বা বিকল্প পদক্ষেপ জনগণ ও বিএনপি কখনও মানবে না।”

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দেশের জনগণ সচেতন। তারা জানে, নির্বাচনের দিন গণভোটের মাধ্যমে প্রত্যেক ভোটের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের একক সিদ্ধান্ত নয়; এটি দেশের সংবিধান ও জনগণের অধিকার রক্ষা করার একটি মৌলিক প্রয়াস।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিএনপি সর্বদা গণভোটের জন্য প্রস্তুত। আমাদের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করা এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা।”

তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অভিযোগ করেন, “বর্তমানে একটি দল ধর্মের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে ভোটের বৈতরণী পার হতে চায়। নারীদের সামাজিক ও পারিবারিক অধিকারকে হ্রাস করে তাদের অন্দরমহলে বন্দি রাখতে চাচ্ছে।” সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন, “এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর। তাই বিএনপি নারীর অধিকারের প্রতি দায়বদ্ধ এবং তাদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব সময় সচেষ্ট।”

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বের উপর আলোকপাত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে, সংবিধান ও সনদের প্রতিপালন জরুরি। সংসদ গঠন ও কার্যকর করার মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব। জুলাই সনদে যে নির্দেশনাগুলি রয়েছে, তা দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। সনদের মূল উদ্দেশ্য হল দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে পুনরুজ্জীবিত করা, ভোটের মর্যাদা সুরক্ষিত করা এবং জনগণের আস্থা অর্জন করা।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে। জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো কার্যত অধিকারহীন হয়ে পড়বে। এটি কোনভাবেই সহনীয় নয়। সুতরাং, এই সনদ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।”

নারী ও শিশু ফোরামের সমাবেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বিশেষভাবে নারী অধিকার এবং সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “বিএনপি নারীর পারিবারিক ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নারীরা শুধু পরিবারের নই, দেশের নাগরিক হিসেবেও তাদের পূর্ণ অধিকার ভোগ করার সুযোগ থাকা উচিত। আমরা চাই নারীর স্বাবলম্বিতা, কর্মসংস্থান এবং শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের সমাজে সমান মর্যাদা প্রদান করা হোক।”

তিনি সমাবেশে আরও বলেন, “দেশে সকল নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করা, নারীর অধিকার নিশ্চিত করা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা—এগুলো বিএনপির অঙ্গীকার। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এই লক্ষ্য পূরণ সম্ভব। সনদে উল্লেখিত প্রতিটি পদক্ষেপই জনগণের কল্যাণ, ন্যায় এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে দৃঢ় করবে।”

সালাহউদ্দিন আহমদ সমাবেশে জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, “বিএনপি প্রতিটি রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য সচেষ্ট। জনগণ যাতে সর্বদা নিরাপদ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে, সে জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। আমাদের লক্ষ্য দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং জনগণের বিশ্বাস অর্জন করা।”

তিনি উল্লেখ করেন, “জাতীয় রাজনীতিতে কোনো দল যদি একপক্ষীয়ভাবে অন্য দল বা জনগণের প্রতি অসদাচরণ করে, তা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে। তাই বিএনপি সর্বদা সংবিধান ও জুলাই সনদের নির্দেশনা অনুসরণ করবে, যাতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে রাজনৈতিক সহমর্মিতা, ন্যায় ও সামাজিক সমতার ভিত্তিতে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা।”

সালাহউদ্দিন আহমদের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায় যে বিএনপি রাজনৈতিক ও সামাজিক সব ক্ষেত্রে সংবিধান, সনদ এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। এটি শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি দলের দৃঢ় মনোভাবের প্রকাশ।

এভাবে শাহবাগের সমাবেশ ও মিছিলের মাধ্যমে বিএনপি দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করছে যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তারা অক্ষরে অক্ষরে প্রস্তুত এবং এই সনদের বাইরে কোনো বিকল্প পদক্ষেপ জনগণ গ্রহণ করবে না। দলের নেতাদের বক্তব্যে রাজনৈতিক সংহতি, নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচন নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের একটি দৃঢ় প্রতিফলন দেখা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত