আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না: ড. ইউনূস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২০ বার
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ৫ বিষয়ে গণভোট, ভোটার হ্যাঁ বা না বলবেন

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে না। তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী ব্যারনেস জেনি চ্যাপম্যানের সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানান। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ খবর প্রকাশ করে।

বৈঠকে ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন, অবৈধ অভিবাসন রোধ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গা সংকট এবং বিমান ও সামুদ্রিক খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আগামী নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক এবং ভোটার উপস্থিতি ব্যাপক হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বৈরশাসনের ১৬ বছরের সময়কালে বিকৃত তিনটি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ না পাওয়া কোটি কোটি যুবক এবার প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, দেশের সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। এর ফলে দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না এবং নির্বাচন কমিশন দলটিকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি একটি নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের সূচনা হিসেবে গণ্য করা হবে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘জুলাই চার্টার’ নামে পরিচিত একটি নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করবে। প্রধান উপদেষ্টা ব্যাখ্যা করেন, এটি গত বছরের জুলাই–আগস্টে ঐতিহাসিক বিদ্রোহে অংশ নেওয়া লাখ লাখ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

বৈঠকে ব্রিটিশ মন্ত্রী ব্যারনেস চ্যাপম্যান অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে জুলাই সনদ সম্পর্কিত চলমান সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া, তিনি অভিবাসীদের ব্রিটিশ আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

অধ্যাপক ইউনূস জানান, তার সরকার নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে আরও বেশি বাংলাদেশিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিতে উৎসাহিত করা হবে, যাতে দেশের দক্ষ মানবসম্পদ সঠিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবাহিত হতে পারে। তিনি এ বিষয়ে দুটি দেশের মধ্যকার সহযোগিতা বৃদ্ধি ও অভিবাসন ব্যবস্থার নিয়মনীতি দৃঢ় করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও বৈঠকে আলোচিত হয়। বাংলাদেশে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা প্রধান উপদেষ্টা ও ব্রিটিশ মন্ত্রী উভয়েই স্বীকার করেন। ড. ইউনূস বলেন, শিবিরের যুবকেরা আশাহীন হয়ে বড় হচ্ছে, তারা রাগান্বিত এবং হতাশ। তাই তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে তারা ভবিষ্যতে সমাজের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

ঢাকা ও লন্ডনের মধ্যে বাণিজ্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ উপকূলীয় ও সমুদ্র সংক্রান্ত গবেষণার জন্য একটি ব্রিটিশ গবেষণা জাহাজ কিনছে। এ ধরনের গবেষণার মাধ্যমে দেশটি সামুদ্রিক সম্পদ ও নৌপরিবহন খাতে আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অগ্রগতি করতে সক্ষম হবে। মন্ত্রী চ্যাপম্যান দুই দেশের বিমান খাতের সম্পর্ক শক্তিশালী করার আহ্বান জানান এবং জানান, এয়ারবাস ইন্টারন্যাশনালের প্রধান শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসবেন, যা বিমানসেবার মানোন্নয়ন ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এসডিজি কো-অর্ডিনেটর লামিয়া মোর্শেদ এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষ মনোযোগ প্রদান করা হয়।

এই বৈঠক দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচন, অভিবাসন নীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের মতো বিষয়গুলোতে সরাসরি আলোচনা দেশের নাগরিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে এই অন্তর্বর্তী সরকার দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

সংক্ষেপে বলা যায়, আগামী নির্বাচনের রূপ–রেখা, দলীয় অংশগ্রহণ সীমাবদ্ধতা এবং বৈদেশিক সহযোগিতা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগই এই বৈঠককে রাজনৈতিক ও মানবিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। এটি কেবল দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করছে না, বরং ভবিষ্যতের নীতি ও দিকনির্দেশনার জন্যও একটি সুস্পষ্ট সূচক হিসেবে কাজ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত