চট্টগ্রামে পাওনা টাকা চাওয়ায় যুবক আকাশ ঘোষ খুন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪১ বার

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

চট্টগ্রাম নগরের এনায়েতবাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাত গভীর সময়ে পাওনা টাকা দাবি করতে গিয়ে আকাশ ঘোষ নামে এক যুবকের হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত আকাশ ঘোষের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ ছিল তার বন্ধু সানি ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে অর্থ নিয়ে বিরোধ।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আকাশ ঘোষ স্থানীয় কসাইপাড়া এলাকায় এনায়েতবাজারের বাসিন্দা ছিলেন এবং মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে পরিবর্তন করার পরও সানি নামের এক যুবক তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেননি। এর জের ধরে আকাশ টাকা চাওয়ার জন্য ওই রাতে সানির সঙ্গে দেখা করতে যান। কিন্তু তারা আর্থিক বিরোধকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আকাশ যখন সানি ও তার সঙ্গীদের সঙ্গে কথোপকথন শুরু করেন, তখনই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আক্রমণ চালান। একপর্যায় ছুরি ব্যবহার করে আকাশকে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছে দেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, আকাশ ঘোষ একজন শান্তিপ্রিয় যুবক ছিলেন। তার হঠাৎ প্রাণহানি পরিবারে শোকের ছায়া ফেলেছে। আত্মীয়স্বজনরা দাবি করছেন, এই হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তারা স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি তড়িৎ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আবেদন জানান।

এ ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষও উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, এনায়েতবাজারসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক বছরে যুবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ধরনের ঝগড়া ও অশান্তি বেড়েছে। বিশেষ করে অর্থসংক্রান্ত বিরোধ এবং পারস্পরিক উত্তেজনা অনেক সময় সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকারী সানি ও তার সহযোগীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া, নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা জানান, আকাশ ঘোষের প্রাপ্ত আঘাত খুবই গুরুতর ছিল এবং তা সঙ্গে সঙ্গে রক্তক্ষরণের কারণে প্রাণহানির কারণ হয়েছিল। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, স্থানীয়রা আক্রমণ দেখেই তাকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তা সময়মতো সম্ভব হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিহতের ছবি ও ঘটনার বর্ণনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বিভিন্নভাবে নিন্দা জানিয়েছে এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এ ছাড়া, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের হত্যা ও সহিংসতা সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। তারা মনে করছেন, তরুণদের মধ্যে আর্থিক ও সামাজিক বিবাদ সমাধানে সহনশীলতা ও সংলাপের চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, ঘটনার রাতটি অত্যন্ত অন্ধকার ছিল এবং দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক মিনিটের ভেতর সংঘর্ষে আকাশ গুরুতর আহত হন। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশের তড়িঘড়ি উপস্থিতি বিষয়টিকে আরও তাত্পর্যপূর্ণ করেছে। পুলিশ জানিয়েছেন, এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনাকে প্রতিরোধের জন্য স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ঘটনা শুধুই একটি অর্থসংক্রান্ত বিরোধ নয়, বরং এটি সমাজে বেড়ে চলা সহিংসতার প্রতিফলন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসন দ্রুত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে এবং এলাকার মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।

চট্টগ্রাম নগরের এনায়েতবাজারে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড সমাজে একবার আরও সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে যে, আর্থিক বা পারস্পরিক বিরোধের কারণে যুব সমাজের মধ্যে সহিংসতা প্রতিদিন বেড়ে চলেছে। ফলে, স্থানীয় প্রশাসন, পরিবার এবং সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে যাতে এমন ঘটনাকে শূন্যে নামানো যায় এবং তরুণরা সহনশীল ও শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের সমস্যা সমাধান করতে পারে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ বলেছে, যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করা হবে। তারা জানিয়েছে, তদন্তের জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে বিচারিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত