প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পটুয়াখালীর ঝাউতলায় জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের আগুন দেওয়ার ঘটনা এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা স্মৃতিস্তম্ভের নিচের অংশে আগুন লাগানোর চিহ্ন এবং কালো দাগ দেখতে পান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগুন লাগানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হলে ঘটনাটি দ্রুত জনমনে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের এক যোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন অভিযোগ করেন, শহীদদের প্রতি এমন অবমাননাকর কর্মকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা গতকাল সারাদিন স্মৃতিস্তম্ভের পাহারায় ছিলাম। ঝাউতলা আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ যে কোনোভাবে অক্ষত রাখব। প্রশাসনের কাছে দাবি, ভিডিও ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করতে হবে।”
ঝাউতলা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দুর্বৃত্তরা রাতে এসে স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেছে। সকালে এসে কালো দাগ দেখে স্থানীয়রা হতবাক হন। এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় সমাজ ও ইতিহাসপ্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্মৃতিস্তম্ভটি শুধু একটি নির্মাণ নয়, এটি দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা স্বাধীনতার আন্দোলনের স্মৃতি এবং শহীদদের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে স্থানীয় এবং দেশের জনগণকে একত্রিত করে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) তারেক হাওলাদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, আগুনে স্মৃতিস্তম্ভের বড় কোনো ক্ষতি হয়নি, শুধু নিচের দিকে কিছুটা কালো দাগ লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দোষীদের শনাক্ত করা হবে। যারা শহীদদের স্মৃতিসৌধে এই ধরনের অবমাননা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি এলাকায় পুলিশি উপস্থিতি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, স্মৃতিস্তম্ভটি শুধু শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক নয়, এটি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন, যা নতুন প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দেয় দেশের জন্য ত্যাগের মূল্য। স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার এই ঘটনা সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি দেশের ইতিহাস এবং শহীদদের ত্যাগকে অবমূল্যায়ন করার চেষ্টা হিসেবে নিন্দিত হয়েছে।
স্থানীয় যুবক ও শিক্ষার্থীরা জানান, এই ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা সংস্থাকে তৎপর রাখবে না, বরং জনগণের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এবং সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরদার করবে। তারা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুততম সময়ে দোষীদের শনাক্ত ও দণ্ড প্রদান করবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে।
অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, আগুন দেওয়া ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং এটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও দুঃখের সৃষ্টি করেছে। ঝাউতলা এলাকার মানুষ মনে করেন, শহীদদের স্মৃতির অবমাননা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি জাতীয় ইতিহাস ও মর্যাদার প্রতি অবজ্ঞা।
জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভ পটুয়াখালী জেলার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এটি শহীদদের আত্মত্যাগের গল্পের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। স্মৃতিস্তম্ভের প্রতি এই ধরনের আঘাত শুধু স্থানীয় জনগণ নয়, পুরো জাতির হৃদয়কে আঘাত দিয়েছে। ইতিহাসপ্রেমীরা মনে করেন, দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হলে তা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।
সংক্ষেপে, পটুয়াখালীর ঝাউতলায় জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশ দোষীদের শনাক্ত এবং আইনি ব্যবস্থা নিতে কার্যক্রম শুরু করেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে, যাতে ইতিহাস ও শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরায় না ঘটে।